ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

‘উরুগুয়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না’

‘উরুগুয়ের জন্য কিছুই করতে পারলাম না’

তিন বছরের নিবেদন, চেষ্টা, পরিশ্রম কিছুই অনুদিত হলো না মাঠে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যাওয়ার বিষাদ সঙ্গী হলো উরুগুয়ের। মার্সেলো বিয়েলসাকে গ্রাস করল হতাশা, আফসোস। আক্ষেপভরা কণ্ঠে এই আর্জেন্টাইন কোচ বললেন, উরুগুয়েকে কিছু দিয়ে যেতে পারলেন না তিনি। বিশ্বকাপের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। সবশেষ দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ লাতিন আমেরিকার দেশটি পেয়েছিল ১৯৫০ সালে। এরপর থেকে বৈশ্বিক আঙিনায় তাদের খরা চলছে। গত বিশ্বকাপেও উরুগুয়ের বিদায় ঘণ্টা বাজে গ্রুপ পর্ব থেকে। এবারও ফিরে এলো সেই তেতো স্মৃতি।

নতুন স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে, অভিজ্ঞ বিয়েলসার হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিল উরুগুয়ে। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে এসে কখনও ‘আমি মডেল নই’, কখনও খেলোয়াড়দের সাথে তারা প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ নিয়ে ‘আমি বিষাক্ত’ বলে শিরোনামে এসেছেন তিনি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সাফল্যের উচ্ছ্বাস নিয়ে শিরোনামে আসতে পারেননি তিনি।

তার দল উরুগুয়েও। প্রথম ধাক্কাটি উরুগুয়ে খায়, বিশ্বকাপ শুরুর যাত্রায়, সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে। এরপর নবাগত কেইপ ভার্ডের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের ধাক্কায় চলে যায় খাদের কিনারে। গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল, স্পেনের বিপক্ষে জয়ের বড্ড প্রয়োজন ছিল তাদের, কিন্তু গতকাল শনিবার গুয়ালাদাহারার সবুজ মাঠ মুসলেরা-ভালভের্দেদের ছাড়তে হয় ১-০ গোলের হার এবং আরও একবার স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশার আগুনে পুড়ে।

ব্যর্থতার সব দায় নিজের কাঁধে নিলেন বিয়েলসা। ৭০ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন কোচ অকপটে মেনে নিলেন, উরুগুয়ের জন্য বলার মতো কিছুই রেখে যেতে পারলেন না তিনি। ‘এই হতাশার জন্য আমি দায়ী। অবশ্যই, এই পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নেই আমার যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, উরুগুয়ের সাথে আমার সময়টা কীভাবে মনে রাখা হবে-এটা এমন একটি অধ্যায়, যা কিছুই রেখে যায়নি। উরুগুয়ের ফুটবলে আমি কিছুই রেখে যেতে পারলাম না। কেননা, যে দেশটির দায়িত্বে আমি তিন বছর থেকেছি, সেখানে আমার কোনো অবদানই স্বীকৃতি পেতে পারে না, যদি কোনো সাফল্য অর্জিত না হয়।’

২০১০ বিশ্বকাপে উরুগুয়ের সেমি-ফাইনালে ওঠার নায়ক ফের্নান্দো মুসলেরা স্পেন ম্যাচেও ছিলেন পোস্টে। কিন্তু অ্যালেক্স বায়েনার শট তার হাত ফসকে বেরিয়ে জড়ায় জালে। ওই গোলটিই শেষ পর্যন্ত বিদায় করে দেয় উরুগুয়েকে। দ্বিতীয়ার্ধে আর মুসলেরাকে নামাননি বিয়েলসা। এই সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা হচ্ছে চারদিকে। উরুগুয়ে কোচ বললেন, মুসলেরা নিজেই চাননি খেলা চালিয়ে যেতে। ‘মুসলেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, দ্বিতীয়ার্ধে না খেলার। আমি তাকে তুলে নিয়েছিলাম, তার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করার জন্য নয়; বরং ধরে রাখার জন্য।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত