ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুখবর নেই জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে

সুখবর নেই জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসে

এক সময় বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসে জাতীয় জুনিয়র প্রতিযোগিতা ছিল ভবিষ্যতের তারকা তৈরির সবচেয়ে বড় মঞ্চ। এই প্রতিযোগিতা থেকেই উঠে আসতেন দেশের দ্রুততম দৌড়বিদরা, যারা নিজেদের পারফরম্যান্স দিয়ে জাতীয় রেকর্ডের দুয়ারে কড়া নাড়তেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ধারাবাহিকতা যেন হারিয়ে গেছে। শুক্রবার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া এবারের জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফলাফলই তার বড় প্রমাণ।

বালকদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে বিকেএসপির জাহিদুল ইসলাম ১১.০৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছেন। একই সময়ে ১১.০৩ সেকেন্ড দৌড়ে কিশোর বিভাগে স্বর্ণ জিতেছেন বিকেএসপির রিফাত শেখ। অন্যদিকে বালিকাদের বিভাগে বিকেএসপির রাফিয়া খাতুন ১৩.০৬ সেকেন্ড এবং কিশোরীদের বিভাগে আনসারের সাবিনা আক্তার রুবি ১২.৪০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন।

কাগজে-কলমে এটি স্বর্ণজয়ী পারফরম্যান্স হলেও বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলছে। কারণ বর্তমানের এই টাইমিংগুলো দেশের জুনিয়র পর্যায়ের পুরোনো রেকর্ডের ধারেকাছেও নেই। ২০১৬ সালে বালক বিভাগে বিকেএসপির হাসান মিয়া ১০.৬০ সেকেন্ড সময় নিয়ে জাতীয় রেকর্ড গড়েছিলেন। বালিকা বিভাগে ২০১৯ সালে সুমাইয়া দেওয়ান ১২.২২ সেকেন্ডে নতুন রেকর্ড করেছিলেন। কিশোর বিভাগে ২০১৫ সালে সাইফুল ইসলাম খান ১০.৫৩ সেকেন্ডে এবং কিশোরী বিভাগে আজমি খাতুন ১২.৪০ সেকেন্ডে রেকর্ড গড়েছিলেন।

অর্থাৎ প্রায় এক দশক পর এসে বালক ও কিশোর বিভাগে স্বর্ণজয়ীদের সময় আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় অর্ধ সেকেন্ড ধীর। স্প্রিন্টে যেখানে এক সেকেন্ডের শতভাগের এক ভাগও বড় ব্যবধান তৈরি করে, সেখানে এমন পার্থক্য বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের জন্য উদ্বেগের বার্তা। বালিকা বিভাগেও রেকর্ডের তুলনায় প্রায় এক সেকেন্ড পিছিয়ে বর্তমানের স্বর্ণজয়ী। কেবল কিশোরী বিভাগে পুরোনো রেকর্ডের সমান সময় হয়েছে, নতুন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এই চিত্র স্পষ্ট করে যে দেশের অ্যাথলেটিকসে নতুন প্রতিভা তৈরি হওয়ার গতি কমে গেছে। আধুনিক প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের কোচিং, বৈজ্ঞানিক ফিটনেস ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার অভাব পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। প্রতিভা থাকলেও তাদের যথাযথ পরিচর্যা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্ট। জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকসের মূল লক্ষ্য শুধু পদক জয় নয়, বরং ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের অ্যাথলেট তৈরি করা।

কিন্তু যখন বছরের পর বছর আগের রেকর্ডই অক্ষত থাকে এবং নতুন প্রজন্ম সেই মান ছুঁতেও ব্যর্থ হয়, তখন উদ্বিগ্ন হওয়াই স্বাভাবিক। তাই এবারের জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিকস শেষ হয়েছে নতুন রেকর্ডের উচ্ছ্বাস নয়, বরং একরাশ প্রশ্ন রেখে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত