ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

৭২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড

প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা
৭২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে কোয়ার্টারে সুইজারল্যান্ড

আগের ম্যাচেই দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিগে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। দেখার বিষয় ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ কারা হয়। অবশেষে ঘন্টা চারেক অপেক্ষার পর জানা গেল সে নাম। আরেকটি রুদ্ধশ্বাস লড়াই, ১২০ মিনিটও গোলশূন্য দুই দল। শেষ পর্যন্ত ভাগ্য নির্ধারণ হলো টাইব্রেকারে। সেখানে স্নায়ুর লড়াইয়ে কলম্বিয়াকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ৭২ বছর পর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার ভোর রাতে ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মিলিয়ে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। এরপর টাইব্রেকারে সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে জয় নিশ্চিত হয় ইউরোপের দলটির। ১৯৫৪ সালের পর এ প্রথম বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল সুইজারল্যান্ড। আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত সুইসরা সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে খেলবে শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে, যারা সব ম্যাচই জিতেছে। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে বল দখলে একটু পিছিয়ে থাকলেও, আক্রমণে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়েই ছিল কলম্বিয়া। গোলের জন্য শটও বেশি নেয় তারা, তবে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে খুব বেশি পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি দলটি। তাদের ১৫ শটের তিনটিই কেবল লক্ষ্যে ছিল। আর সুইসদের সাত শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে। এরপর, টাইব্রেকারেও লক্ষ্যে শট রাখতে ভুগতে দেখা গেল কলম্বিয়াকে। দুই দলই প্রথম শটে সফল হয়। তবে এরপরই, কলম্বিয়ার দ্বিতীয় শট নিয়ে ব্যর্থ হন দাভিনসন সানচেস, তার প্রচেষ্টা লক্ষ্যেই ছিল না। সে সুযোগে জিকি আমদুনি সফল হলে এগিয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার তৃতীয় শট জালের ছোঁয়া পায়, কিন্তু সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় শট নেয়া মানুয়েল আকঞ্জি উড়িয়ে মারলে স্কোরলাইনে ২-২ সমতা থাকে। চতুর্থ প্রচেষ্টায় কলম্বিয়ার কুচো এর্নান্দেসের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে গ্রেগর কোবেল রুখে দেন। আর সেদ্রিক গোল করলে ৩-২ এ এগিয়ে থাকে ইউরোপের দলটি। কলম্বিয়ার পরবর্তী শটে লুইস দিয়াস সফল হলে স্কোরলাইন হয় ৩-৩ এবং লড়াই জারি থাকে। তবে এরপর, রুবেন ভার্গাস জালে বল পাঠাতেই নিশ্চিত হয়ে যায় লড়াইয়ের ফল, উৎসবে মাতে সুইজারল্যান্ড। মূল লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘটনা ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছিল সময়। নির্বিঘ্নে সময় কাটছিল দুই গোলরক্ষকের। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের আগে লড়াইয়ে প্রথম উত্তাপ ছড়ায়। এরপর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। ২১তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম ভালো সুযোগটি পায় কলম্বিয়া। ডি-বক্সের মুখ থেকে হাওয়ায় ভাসিয়ে দূরের পোস্টে জোরাল শট নেন গুস্তাভো পুয়ের্তা, ঝাঁপিয়ে সেটা রুখে দেন গোলরক্ষক। প্রথম আধা ঘন্টা অন্য পাশের পোস্টে কোনোরকম ব্যস্ততা ছাড়াই পার করে দেয়া কামিলো ভার্গাস প্রথম পরীক্ষার মুখে পড়ে ৩১তম মিনিটে। ফাবিয়ান রিয়েদেরের সে প্রচেষ্টায় দৃঢ়তায় আটকে দেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর দান এনদোয়ের শটও রুখে দেন ভার্গাস। ওখান থেকে পাল্টা আক্রমণে উঠে লুইস দিয়াসের প্রচেষ্টা রক্ষণে প্রতিহত হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। কিন্তু কেউই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ভীতি ছড়াতে পারছিল না। এ অর্ধে একমাত্র উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে ৬৩তম মিনিটে। সুইস রক্ষণের একটু ভুলে ডি-বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে যান লুইস সুয়ারেস, সামনে একমাত্র বাধা ছিলেন গোলরক্ষক; কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে তার দুর্বল শট লক্ষ্যেও থাকল না। দীর্ঘ সময়ে দুই দলের ধারহীন সব আক্রমণের মাঝে, ৯৯তম মিনিটে ভাগ্য সহায় হলে এগিয়ে যেতে পারতো কলম্বিয়া। কিন্তু কর্নারে ডিফেন্ডার লুকুমির হেড ক্রসবারে বাধা পায়। পাঁচ মিনিট পর, হতাশা আরও বাড়ান সেরা ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াস। ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও, প্রতিপক্ষ বরাবর শট নিয়ে সুযোগটা নষ্ট করেন বায়ার্ন মিউনিখ তারকা। পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে ম্যাচের সেরা সুযোগটি পান হামিন্তন কাম্পাস। প্রতিপক্ষের ভুলে বল পেয়ে ডি-বক্সে ঢুকেও পড়েন তিনি, কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ানে অবিশ্বাস্যভাবে উড়িয়ে মারেন এ মিডফিল্ডার। এরপর শুরু হয় টাইব্রেকারের স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই, যেখানে একটি শট ঠেকিয়ে সুইজারল্যান্ডের নায়ক হয়ে যান গোলরক্ষক কোবেল। শনিবার (১১ জুলাই) কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) আটলান্টায় মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত