ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আইসিসির বড় দায়িত্বে তামিম

আইসিসির বড় দায়িত্বে তামিম

বিশ্বজুড়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে আরও সুসংগঠিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে নিয়ে ভবিষ্যতে ‘ওয়ার্ল্ড ক্লাব টি-টোয়েন্টি’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট–সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়গুলো দেখভালের জন্য গঠিত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালকে।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে আইসিসি তামিমের এই নিয়োগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। বিসিবির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আইসিসির এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্ব পাওয়াকে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ভারতের আইপিএল, অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, পাকিস্তান সুপার লিগ, বাংলাদেশের বিপিএল, দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি২০, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটসহ একাধিক লিগের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচি, খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ এবং তাদের কাজের চাপ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

একই ক্রিকেটারকে বছরের বিভিন্ন সময়ে একাধিক লিগে খেলতে হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভারসাম্য রক্ষা এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় করাই হবে তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে একটি বৈশ্বিক ক্লাব টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনাও এই কমিটির তত্ত্বাবধানে এগিয়ে নেওয়া হবে। ফুটবলের ক্লাব বিশ্বকাপের আদলে এমন একটি প্রতিযোগিতা চালুর বিষয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। আইসিসির নতুন উদ্যোগ সেই পরিকল্পনাকে আরও বাস্তব রূপ দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তামিমের নেতৃত্বাধীন কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিন ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের মধ্যে আছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিত সাইকিয়া, ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গুল্ড, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ এবং ক্রিকেট নামিবিয়ার সভাপতি ডা. রুডি ভন ভুরেন। ফলে বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।

আইসিসির বোর্ড সভায় শুধু নতুন কমিটি গঠনই নয়, সদস্যদেশগুলোর সাংগঠনিক বিষয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নবনির্বাচিত সভাপতিকে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর পরিচালক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আইসিসির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে দ্রুত নির্বাচিত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আইসিসি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে না ওঠা পর্যন্ত আইসিসি বোর্ডের সভায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট কোনো প্রতিনিধি পাঠাতে পারবে না বলেও জানানো হয়েছে।

ফ্রান্স ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইসিসি। সদস্যপদ–সংক্রান্ত নির্ধারিত মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগে দেশটির ক্রিকেট সংস্থাকে ‘অন নোটিশ’ বা সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থগিতাদেশে থাকা ক্রিকেট কানাডার সদস্যপদ পুনর্বহালের জন্যও বেশ কয়েকটি শর্ত পূরণের নির্দেশ দিয়েছে আইসিসি। সভায় আর্থিক সংকটে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের জন্যও বড় সহায়তার ঘোষণা এসেছে। সংস্থাটিকে ১২ দশমিক ৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় দেড়শ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। এই অর্থ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এদিকে আইসিসি একই সভায় গভর্ন্যান্স রিভিউ কমিটিও পুনর্গঠন করেছে। এই কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়াকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ডা. মোহাম্মদ মুসাজি এবং আইসিসির স্বাধীন পরিচালক ডা. রস রিভাজ। ক্রিকেট প্রশাসনে সুশাসন, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কার নিয়ে এই কমিটি কাজ করবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত