ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আশার আলো জ্বালিয়ে নিভে গেল লাল সবুজ বাতি

আশার আলো জ্বালিয়ে নিভে গেল লাল সবুজ বাতি

গত এক দশকের মধ্যে জিম্বাবুয়ে সফরে সবচেয়ে বাজে সময় কাটছে বাংলাদেশ দলের। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডে সিরিজে কোনরকম হোয়াইটওয়াশ এড়িছে টাইগাররা। লক্ষ্য ছিল টি-টোয়েন্টি সিরিজে ঘুঁরে দাঁড়ানো। কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেল তাওহীদ হৃদয়ের দল। আশার আলো জ্বালিয়ে শেষ পর্যন্ত নিভে গেছে লাল সবুজ বাতি। ম্যাচের মোড় তখনও পুরোপুরি ঘুরে যায়নি। ১৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড বলছিল, জয়ের জন্য শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ৪৮ রান। হাতে তখনও পাঁচ উইকেট, ক্রিজে সেট ব্যাটার ইয়াসির আলী।

টি-টোয়েন্টির যুগে এমন সমীকরণ অসম্ভব নয়। কিন্তু যে জায়গা থেকে লড়াইয়ের আশা ছিল, সেখান থেকেই অবিশ্বাস্য ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে! শেষ পাঁচ উইকেট হারায় মাত্র ৮ রানে। ১৯ ওভারেই গুটিয়ে যায় পুরো দল। আর সেই ধসেই ৩২ রানের জয় তুলে নিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে।

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের দুর্দশার তালিকায় যোগ হলো আরও একটি অধ্যায়। টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হার, ওয়ানডে সিরিজ খোয়ানোর পর তৃতীয় ওয়ানডেতে পাওয়া সান্ত¡নার জয় হয়তো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই সেই আশায় আবারও পানি ঢেলে দিল স্বাগতিকরা।

গতকাল বুধবার বুলাওয়েতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭০ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে রাখেন দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি। চতুর্থ ওভারে নাহিদ রানা মারুমানিকে ফিরিয়ে ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও রান তোলার গতি থামেনি। ডিয়ন মেয়ার্স ২০ রান করে বিদায় নিলেও বেনেট দায়িত্ব নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন। মাত্র ৩০ বলে ৬ চার ও একটি ছক্কায় ৪৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। মাঝের ওভারগুলোতে সিকান্দার রাজা ১৩ বলে ২০ রান করে গতি ধরে রাখেন। শেষদিকে রায়ান বার্লের অপরাজিত ৩০ এবং ব্র্যাড ইভান্সের ১০ বলে ১৯ রানের ঝড়ো ইনিংস জিম্বাবুয়েকে নিয়ে যায় ১৭০ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা। আগুনঝরা স্পেলে শুরুতে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছিলেন তিনি। একপর্যায়ে মাত্র ৩ রান খরচায় তুলে নেন চার উইকেট। যদিও শেষ ওভারে ১৮ রান দিয়ে তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। দুটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ। সাইফ হাসান ১৫ বলে মাত্র ১২ রান করে ফিরলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ২৫ রানে। তানজিদ হাসান তামিম ৮ বলে ১৬ রান করে আক্রমণাত্মক সূচনা দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। এরপরই শুরু হয় টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার মিছিল। পারভেজ হোসেন ইমন, অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান- কেউই দায়িত্ব নিতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে যখন বাংলাদেশ চাপে, তখন প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে সুযোগ পাওয়া ইয়াসির আলী রাব্বি একাই লড়াই চালিয়ে যান।

৩৮ বলে দুটি চার ও তিনটি ছক্কায় ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখান তিনি। অন্য প্রান্তে শেখ মেহেদী হাসানও ১৮ বলে ১৯ রান করে কিছুটা সঙ্গ দেন। দুজনের জুটিতে ম্যাচের সমীকরণ একসময় নেমে আসে শেষ ১৮ বলে ৪৮ রানে। কিন্তু সেখান থেকেই ঘটে অপ্রত্যাশিত পতন। প্রথমে ইয়াসির বিদায় নেন। এরপর শেখ মেহেদী, সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ ও শেষ ব্যাটারও দ্রুত সাজঘরের পথ ধরেন। মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

জিম্বাবুয়ের জয়ের নায়ক দুই পেসার রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজারাবানি। দুজনই চারটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে ছিন্নভিন্ন করে দেন। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ ভাগে তাদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিং বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

বাংলাদেশের এই পরাজয়ের বড় কারণ শুধু ব্যাটিং ব্যর্থতা নয়, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো কাজে লাগাতে না পারাও। টপ অর্ডারের ব্যর্থতা, মিডল অর্ডারের দায়িত্বহীনতা এবং শেষ তিন ওভারে ভয়াবহ ধস- সব মিলিয়ে আরেকটি হতাশার গল্প লিখল টাইগাররা। এখন সিরিজে টিকে থাকতে হলে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই বাংলাদেশের। নইলে টেস্ট ও ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজও হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা হয়ে যাবে। ১৭ জুলাই দ্বিতীয় ও ১৯ জুলাই তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত