
ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ও প্রস্তাব সত্ত্বেও আজুরিদের প্রধান কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন পেপ গুয়ার্দিওলা। চলতি সপ্তাহে ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পাওলো মালদিনি এবং ফেডারেশন প্রধান জিওভান্নি মালাগো নিশ্চিত করেছিলেন যে, গাত্তুসোর বিদায়ের পর গুয়ার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছেন তারা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই আলোচনা আর এগোয়নি এবং সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি মাস্টারমাইন্ড প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়েছেন। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর গত এপ্রিলে দায়িত্ব ছাড়েন জেন্নারো গাত্তুসো। এরপর থেকে নতুন কোচের সন্ধানে থাকা এফআইজিসি ফুটবল বিশ্বের দুই শ্রেষ্ঠ কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা এবং বর্তমানে ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকা কার্লো অ্যানচেলোত্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। অ্যানচেলোত্তির ব্রাজিলের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি রয়েছে। ইতালির লিগ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পাওলো মালদিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা কোচদের দিয়ে আলোচনা শুরু করাটাই আমাদের কাছে সঠিক মনে হয়েছিল। যখন ইতালি ডাকে, তখন ‘না’ বলা কঠিন। কিন্তু তাদের প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও আমাদের দেখতে হবে। আমরা একটি বড় দায়িত্ব ও চাপ অনুভব করছি।’ ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে ম্যানচেস্টার সিটিতে দীর্ঘ ১০ বছরের সোনালী অধ্যায়ের ইতি টানেন ৫৫ বছর বয়সী গুয়ার্দিওলা। সিটির হয়ে ৬টি প্রিমিয়ার লিগ, ৩টি এফএ কাপ, ৫টি লিগ কাপ এবং ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফি জেতেন তিনি।
বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ ও সিটিতে অসাধারণ সাফল্যের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখনও কোনো দলকে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতা নেই তার। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি ২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। এই চরম ব্যর্থতার পরপরই কোচ গাত্তুসোর পাশাপাশি তৎকালীন এফআইজিসি সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা এবং ডেলিগেশন প্রধান জানলুইজি বুফন পদত্যাগ করেন। ২০০৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বও পার হতে পারেনি ইতালিয়ানরা, যদিও মধ্যে রবের্তো মানচিনির অধীনে তারা ইউরো ২০২০ শিরোপা জয় করেছিল।