ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গ্রেভসের রেকর্ডের পরও ১৪ উইকেটে এগিয়ে পাকিস্তান

গ্রেভসের রেকর্ডের পরও ১৪ উইকেটে এগিয়ে পাকিস্তান

টানা পাঁচ ওভারে কোনো রান না দিয়েই পাঁচ উইকেট! সুইং ও সিম মুভমেন্ট মিলিয়ে জেন্টল মিডিয়াম পেস বোলিংয়ে অবিশ্বাস্য এক স্পেল উপহার দিলেন জাস্টিন গ্রেভস। বড় স্কোরের পথে থাকা পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়ে লিড পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু তাদের হাসি মুছে গেল নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে। প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান জয়ের পথ তৈরি করে ফেলল বোলারদের দারুণ পারফরম্যান্সে। ত্রিনিদাদ টেস্টে তৃতীয় দিনে পতন হয়েছে ১৪ উইকেটের। নানা নাটকীয়তা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এগিয়ে এখন ১৫৫ রানে, উইকেট বাকি স্রেফ তিনটি। ক্রিজে টিকে নেই বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানদের কেউ।

পাকিস্তানের রান এক পর্যায়ে ছিল ৩ উইকেটে ২৪৪। সেখান থেকে ৩৮ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে গুটিয়ে যায় তারা ২৮২ রানেই। টানা পাঁচটি উইকেট মেডেন নেন গ্রেভস। বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরুর পর টেস্ট ক্রিকেটে এমন নজির এটিই প্রথম!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিড পায় ২৯ রানের। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবিয়ানরা দিন শেষ করে ৭ উইকেটে ১২৬ রান নিয়ে। মোহাম্মাদ আব্বাসের দুর্দান্ত এক প্রথম স্পেলের পর পাকিস্তানের অন্য পেসাররাও চেপে ধরেন ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানদের। ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দিন শুরু করে ৩ উইকেটে ১৯৯ রান নিয়ে। ৮৮ রানে অপরাজিত থাকা শান মাসুদ শতরান পেয়ে যান ১৬৩ বল খেলে। তার টেস্ট ক্যারিয়ারে সপ্তম সেঞ্চুরি এটি।

মাসুদ ও সালমান আলি আগা মিলে নিরাপদে কাটিয়ে দেন প্রথম ঘন্টা। ব্রেক থ্রু এনে দেন শামার জোসেফ। তার চোখধাঁধানো এক ডেলিভারিতে ডিগবাজি খায় সালমানের (২০) অফ স্টাম্প। এরপর গ্রেভসের সেই স্পেল এবং পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ধস। ওই স্পেলের প্রথম দুই ওভারে ছয় ও তিন রান দেন গ্রেভস। এরপর টানা পাঁচটি উইকেট মেডেন!

ড্রাইভ করতে গিয়ে ভুল লাইনে খেলে ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন মাসুদ (১০৯)। ভেতরে ঢোকা মিডল স্টাম্প উপড়ে যায় আমির জামালের। অভিষিক্ত অলরাউন্ডার আলি উসমান এলবিডব্লিউ শূন্য রানেই। বাজে শটে কিপারকে ক্যাচ দেন মোহাম্মাদ রিজওয়ান। আব্বাসকে ফিরিয়ে পূর্ণ হয় তার পাঁচ উইকেট। ১৭ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম স্বাদ! দুটি চার ও এক ছক্কায় ১৯ রান করা খুররাম শাহজাদকে ফিরিয়ে ইনিংসের ইতি টানেন কিমার রোচ।

লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ক্যারিবিয়ানদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন আব্বাস। তার প্রায় নিখুঁত প্রথম স্পেলটি ছিল ৭-৪-৭-২! ব্র্যান্ডন কিং ও কাভেম হজকে ফেরান তিনি এক ওভারেই। প্রথম ইনিংসে ৮৪ রান করা হজ এবার রানই করতে পারেননি।

পরে নিজের বোলিংয়ে দুর্দান্ত ক্যাচে মোহাম্মাদ আলি ফেরান আমির জাঙ্গুকে। শেই হাপ বোল্ড হন উচ্চাভিলাষী শটের চেষ্টায়। কিছুটা প্রতিরোধ গড়া গ্রেভস (২০) বিদায় নেন এক্সট্রা কাভারে অধিনায়ক বাবর আজমের চমৎকার ক্যাচে। দীর্ঘক্ষণ এক প্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার তেজনারাইন চান্দারপল (১০১ বলে ৩৫) থেমে যান আমির জামালের শর্ট বলে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত