ঢাকা বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

গ্যাস সংকটের সুরাহা হোক

গ্যাস সংকটের সুরাহা হোক

কয়েকদিন ধরে বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে সিএনজি স্টেশনগুলোয় যে গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রতিদিন বাড়ছে। অত্যন্ত পরিতাপ ও উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, এ সংকটের সুরাহা ঠিক কবে হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না কেউই। ফলে বাসাবাড়িতে বাড়ছে জ্বালানি খরচ ও ভোগান্তি। একই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে সিএনজি স্টেশনগুলোয় গ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহনের লাইন। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) থেকে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গ্যাসের সংকট এখনই কাটছে না। এ সংকট আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুসারে, এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ভাসমান টার্মিনালটি শনিবারও চালু করা যায়নি। জানা যায়, দেশের ২২টি প্রাকৃতিক গ্যাসকূপের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। রাষ্ট্রায়ত্ত এসব কূপ থেকে দৈনিক উৎপাদন করা হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। চাহিদার বাকি অংশ পূরণ করতে সমপরিমাণ গ্যাস আমদানিকৃত এলএনজি থেকে মেটানো হয়। ফলে কোনো কারণে আমদানি ব্যাহত বা এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে কার্যত ভয়াবহ গ্যাস সংকটে পড়ে পুরো দেশ। এবার হঠাৎ গ্যাস সংকটের কারণটাও এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি। অবশ্য দেশে গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণও দিন দিন কমছে। আমরা জানি, দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনালের সরবরাহ সক্ষমতা ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনাল থেকে ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তবে চলতি সপ্তাহে একটি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির ফলে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। মূলত এটিই গ্রাহকপর্যায়ে চরম প্রভাব ফেলেছে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই সার্বিক পরিস্থিতির শিকার দেশের নানা স্তর। বাসাবাড়ির পাশাপাশি গ্যাসের সংকটের কারণে প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর। আর বিদ্যুতের ঘাটতি ব্যাহত করছে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যবস্থাকে। গ্যাসের অভাবে সড়কে যানবাহন কমে গেছে। ফলে মানুষের যাত্রাব্যয় বাড়ছে। আবার যারা গ্যাসচালিত যানবাহনের চালক, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণ গাড়ি চালাতে পারছে না। ফলে তাদের আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ প্রভাব তাদের ঘরের গ্যাস সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দ্বিগুণ সংকট তৈরি করছে। এখন সবার প্রশ্ন একটাই, এ সংকটের পরিসমাপ্তি হবে কবে? আমরা মনে করি, যত দ্রুত সম্ভব দেশব্যাপী চলমান গ্যাস সংকটের সমাধান অত্যাবশ্যকীয়। এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটি মেরামতের যে কাজ চলছে, তা দ্রুত সম্পন্ন করার সব ধরনের উদ্যোগ তৎপরতা জরুরি। কেননা এ জ্বালানি সংকট যত দীর্ঘ হবে, এটি ধীরে ধীরে সব স্তরকে প্রভাবিত করবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত