ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে সম্ভাবনা দেখছেন প্লামট্রি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে সম্ভাবনা দেখছেন প্লামট্রি

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে বড় সম্ভাবনা দেখছেন ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ফুটবলার অ্যাশলেই প্লামট্রি। ফুটবলের বাইরেও নারী ক্রীড়াবিদদের ক্ষমতায়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সৌদি নারী প্রিমিয়ার লিগের এই তারকা ডিফেন্ডার। গতকাল রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে যান প্লামট্রি। সেখানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের একটি বিশেষ জার্সি উপহার দেওয়া হয়। জার্সি পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্লামট্রি বলেন, এটি পরে মাঠে নামতে পারলে তিনি খুশি হতেন।

বাফুফে ভবনে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গেও কথা বলেন প্লামট্রি। তাদের মধ্যে ছিলেন আফঈদা খন্দকার, মারিয়া মান্দা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও মনিকা চাকমা। প্লামট্রির বাংলাদেশ সফরের মূল উদ্দেশ্য শুধু ফুটবল নয়, নারী ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা। তিনি বলেন, ‘পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করাই আমাকে সবচেয়ে বেশি তৃপ্তি দেয়।’ খেলাধুলা মানুষকে একত্রিত করার শক্তিশালী মাধ্যম বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নিজের নাইজেরিয়ান ও ব্রিটিশ পরিচয়ের কথা তুলে ধরে প্লামট্রি বলেন, ‘ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার প্রতি আমার আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশি নারী ফুটবলারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বেড়ে ওঠা, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাই আমি।’

নারী ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস তৈরিতে খেলাধুলার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্লামট্রি। নিজের ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে নাইজেরিয়ার লাগোসে ২৫০ মেয়েকে নিয়ে ক্যাম্প আয়োজন করেছিলেন।

সেখানে মাঠের বাইরের কথোপকথন থেকেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা পেয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা ভবিষ্যতে ইউরোপের পেশাদার ফুটবলে যেতে পারবেন কি না, এমন প্রশ্নে বাস্তবতার কথা বলেন প্লামট্রি। তার মতে, এজন্য সময়ের পাশাপাশি বড় ধরনের বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। সৌদি আরবের নারী ফুটবলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও সেখানে অনেক নারী সংগঠিতভাবে ফুটবল খেলার সুযোগ পেতেন না। কিন্তু বিনিয়োগ ও বিদেশি খেলোয়াড় আনার মাধ্যমে দ্রুত উন্নতি হয়েছে। তাই বাংলাদেশেও নারী ফুটবলে সঠিকভাবে বিনিয়োগ ও খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হলে প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাফল্য আসতে পারে।’

প্লামট্রির মতে, বাংলাদেশি নারী ফুটবলারদের সম্ভাবনার কোনো সীমা নির্ধারণ করা উচিত নয়। তাদের সুযোগ, বিনিয়োগ ও সমর্থন দেওয়া গেলে তারা আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত