ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বড় মঞ্চে বড় স্বপ্ন হামজা-জামালদের

বড় মঞ্চে বড় স্বপ্ন হামজা-জামালদের

প্রবাসী ফুটবলারদের আগমণে বদলেছে বাংলাদেশের সমীকরণ। লাল সবুজের সমর্থকদের প্রত্যাশা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ফিফা আসিয়ান কাপে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। তবে ফিফা র‍্যাংকিংয়ের দৌড়ে তাদের অবস্থান গ্রুপের সবার নিচে! প্রতিপক্ষ তিন দলই এগিয়ে, শক্তির হিসাবেও ব্যবধান কম নয়। তবু জাকার্তার মাঠে নামার আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে না কোনো সংশয়। বরং বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য দেখানোর প্রত্যয় নিয়েই মাঠে নামতে প্রস্তুত লাল-সবুজের দল। আজ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের আসিয়ান কাপ অভিযান। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টের ডিভিশন-১-এ খেলছে বাংলাদেশ। আট দলকে ভাগ করা হয়েছে দুটি গ্রুপে। 'এ' গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া। অন্য গ্রুপে রয়েছে ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন।

কাগজে-কলমে বাংলাদেশের অবস্থানটা অবশ্য বেশ কঠিন। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১৮১ নম্বরে। মালয়েশিয়া ১৩৬, সিঙ্গাপুর ১৪৮ এবং ইন্দোনেশিয়া ১১৮ নম্বরে। প্রতিটি প্রতিপক্ষই র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু মাঠে নামার আগে সেই ব্যবধানকে বড় করে দেখতে চান না জামাল। ফিফাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের লক্ষ্য জানিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবং ভালো পারফর্ম করতে আমাদের প্রত্যাশা আছে। জাকার্তায় বড় দর্শকের সামনে খেলার জন্য আমরা সত্যিই মুখিয়ে আছি।

বাস্তবতাটা মেনে নিয়েও নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছে বাংলাদেশ। জামাল বলেন, গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে নিচের র‍্যাঙ্কিংয়ের দল। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের পর আমাদের অবস্থান। কিন্তু আমাদের নিজেদের প্রত্যাশা আছে, দেশেরও প্রত্যাশা আছে। আমরা তিন বা চার পয়েন্ট পাওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। আর ফুটবলে এরপর কী হয়, তা তো কখনোই বলা যায় না। তিন বা চার পয়েন্টের লক্ষ্য মানে শুরুতেই হিসাবটা পরিষ্কার। তিন ম্যাচের গ্রুপ পর্বে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করতে চায় বাংলাদেশ। কারণ এই টুর্নামেন্টে গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল সরাসরি ফাইনালে উঠবে। আর দুই গ্রুপের রানার্সআপ খেলবে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।

বাংলাদেশের এই অভিযানে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি জামালের নিজের ক্যারিয়ারের গল্পও কিছুটা আলাদা মাত্রা পাচ্ছে। বয়স বাড়লেও এখনই অবসরের কথা ভাবছেন না তিনি। জাতীয় দলের জার্সিতে প্রতিটি ম্যাচকেই এখন আরও বেশি উপভোগ করতে চান এই মিডফিল্ডার। অবসর প্রসঙ্গে ৩৬ বছর বয়সী জামাল বলেন, সবকিছুরই একটা শেষ আছে। তবে এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে, শরীর ভালো অবস্থায় আছে। জাতীয় দল ও বাংলাদেশের প্রতি আমার অনেক টান। অবসর নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সবাই বলে, খেলার সময়ের মুহূর্তগুলো আরও বেশি উপভোগ করতে পারলে ভালো হতো।

জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনুভূতিটাও তার কাছে আলাদা। প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ থেকে ২৩ জনের দলে জায়গা পাওয়াকে বড় সম্মান মনে করেন তিনি। জামালের কথায়, প্রতিবার মাঠে নামা কিংবা জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা আমার কাছে বিশেষ কিছু। বছরের পর বছর অনেক খেলোয়াড়কে আসতে ও চলে যেতে দেখেছি। যত বেশি সময় দলের সঙ্গে থাকছি, তত বেশি উপভোগ করছি। কারণ আমি ফুটবল ভালোবাসি, আমার দল ও দেশকে ভালোবাসি।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রথম পরীক্ষার পর ২৮ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১ অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। তিনটি ম্যাচই হবে জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে। র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাব যেখানে বাংলাদেশের বিপক্ষে, সেখানে জামালরা ভরসা রাখছেন মাঠের ৯০ মিনিটের ওপর। নতুন টুর্নামেন্টে তাই লক্ষ্য শুধু অংশ নেওয়া নয়-নিজেদের জন্য একটি নতুন গল্প লেখা!

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত