
নেপালকে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচেই মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখল বাংলাদেশ দল। বেগম খালেদা জিয়া নেশনস হ্যান্ডবল ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের কাছে বড় ব্যাবধানে হেরেছে লাল সবুজের মেয়েরা। বাংলাদেশকে ৪৩-১৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে ভারত।
তবে বড় ব্যবধানে হারলেও বাংলাদেশের ফাইনালে খেলার আশা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গতকাল সোমবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধেই ২৪-৮ গোলে এগিয়ে যায় ভারত। বিরতির পরও আক্রমণের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ৩০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা।
ভারতের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ভাওয়ানা। একাই ১৩ গোল করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
ঢাকার মনসুর আলী স্টেডিয়াম তার কাছে অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও বাংলাদেশে এসে স্থানীয় ক্লাবের হয়ে লিগ খেলেছেন এই ভারতীয় খেলোয়াড়। ম্যাচ শেষে ভাওয়ানা বলেন, 'আমি এখানে তৃতীয়বার এসেছি। এর আগে এখানে দুবার লিগ খেলেছি, স্থানীয় ক্লাবের হয়ে। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে। এখানকার মানুষ খুব ভালো, তাঁরা আমাদের সমর্থন করেন। এখানে থাকার ব্যবস্থাও খুব ভালো।'
বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনাল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ভাওয়ানা। তিনি বলেন, 'আমাদের দলের সমন্বয় খুব ভালো। আমরা ফাইনালে পদক নিয়েই ফিরব।' নিজেদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে হারিয়েছিল ভারত। টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ফাইনাল নিশ্চিত করেছে দলটি। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আজ নেপালের মুখোমুখি হবে ভারত।
অন্যদিকে ভারতের কাছে হারলেও বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা টিকে আছে। লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মঙ্গলবার মালদ্বীপকে হারাতে পারলেই ফাইনালে ভারতের সঙ্গী হতে পারবে বাংলাদেশ। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পরের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই স্বাগতিকদের। ভারতের কাছে হারের পর বাংলাদেশের স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো দুই দলের প্রস্তুতি ও দক্ষতার পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, ভারত গত এক বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করেছে। বাংলাদেশও পরিশ্রম করছে, তবে দুই দলের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার স্তরে পার্থক্য রয়েছে।
আনা আলোনসো বলেন, 'আজকের ম্যাচের ফলাফল মূলত দুটি দেশের মধ্যে। একটি দেশ হলো ভারত, যারা গত এক বছর ধরে অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে আসছে; আর অন্যটি হলো বাংলাদেশ, তারাও কঠোর পরিশ্রম করছে, তবে অন্য একটি স্তরে। স্বাভাবিকভাবেই, আমাদের শারীরিক অবস্থা এবং হ্যান্ডবলের দক্ষতা আলাদা, যা মাঠেও দেখা যায়।' তবে এই ব্যবধান কমিয়ে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য বাংলাদেশের। কোচের ভাষায়, 'আমাদের লক্ষ্য হলো আগামী মাস বা বছরগুলোতে উন্নতি করা এবং আরও ভালো করা, যাতে আমরা ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করতে পারি।'