ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সমতায় দক্ষিণ আফ্রিকা

পঞ্চম দিনের প্রথম সেশন বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর, ট্রাভিস হেড ও স্কট বোল্যান্ডের ব্যাটে মাঝের সেশনে বেশ ভালো লড়াই করল অস্ট্রেলিয়া। সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারলেন না হেড। শেষ সেশনে বোল্যান্ডের প্রতিরোধ ভাঙার পর খুব বেশি সময় নিল না দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ পর্যন্ত ইনিংস ব্যবধানেই জিতে সিরিজে ফিরল প্রোটিয়ারা। গেবেখা টেস্টে স্মরণীয় এক জয় পেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইনিংস ও ৩১ রানের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল টেম্বা বাভুমার দল। প্রথম দুই দিনের বেশিরভাগ সময় বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়ার পর, ম্যাচের এমন সমাপ্তির কথা কে ভেবেছিল? বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। কিন্তু অধিনায়ক বাভুমার ৫৫২ মিনিট স্থায়ী ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সঙ্গে মার্কো ইয়ানসেন ও সাইমন হার্মারের অবদানে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৪২৫ রানে।

উইকেটে নিচু বাউন্স আর সিম মুভমেন্টের কারণে ব্যাটসম্যানরা কখনোই স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারেননি।

অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় স্রেফ ৯৯ রানে। ম্যাচের মাঝে একজন বোলার হারানোর পরও অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দিনের শেষ সেশনে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ২৯৫ রানে। ব্যাট হাতে ১০০ বলে ৮৫ রানের পর প্রথম ইনিংসে পাঁচটিসহ ম্যাচে ৬ উইকেট শিকার করেন ইয়ানসেন। চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে চারটিসহ ম্যাচে ৬ উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা। সেঞ্চুরিয়ান হেড ও নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে ১৬৬ বল খেলা বোল্যান্ড ফিরিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন ভিয়ান মুল্ডার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন বাভুমা।

৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ব্যাটিং শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। তখনও ১৭০ রানে পিছিয়ে তারা। আগের দিন ৮৭ রানে অপরাজিত হেড সেঞ্চুরিতে পৌঁছে যান ১৫১ বলে। ১৯৮৮ সালে ডেভিড বুনের অপরাজিত ১৮৪ রানের পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান হিসেবে ফলো-অনে পড়ে সেঞ্চুরি করলেন তিনি। হেডের ক্যারিয়ারের ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি এটি, দেশের বাইরে দ্বিতীয়, ওপেনার হিসেবে চতুর্থ।

পানি পানের বিরতির আগে এক ঘন্টা ১৫ মিনিটে হেড ও বোল্যান্ডের জুটিতে চিড় ধরাতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে বিরতির পর চতুর্থ বলেই সাফল্য পায় তারা।

ভিয়ান মুল্ডারের বল স্টাম্পে টেনে আনেন হেড, যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি।

১৫ চারে ১৯০ বলে ১২১ রান করেন হেড। জুটি থামে ১৬২ বলে ৫৯ রানে। স্টিভেন স্মিথ ব্যাটিংয়ে নামেন সাত নম্বরে। ২০১৪ সালের পর টেস্ট ক্রিকেটে এত নিচে ব্যাটিংয়ে নামলেন তিনি। শুরু থেকে কখনোই স্বস্তিতে ছিলেন না সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। শূন্য রানে তিনি বেঁচে যান কিপার রায়ান রিকেলটন ক্যাচ নিতে না পারায়। সুযোগটা স্মিথ কাজে লাগাতে পারেননি। রাবাদার অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের বলে বাজে শট খেলে শেষ হয় তার ২০ বলে ৩ রানের অস্বস্তিময় পথচলা। চা-বিরতির আগে আর কোনো উইকেট হারায়নি অস্ট্রেলিয়া। ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ১৫৪ বলে ৪০ রান নিয়ে বিরতিতে যান বোল্যান্ড। অবশেষে বিরতির পর তৃতীয় ওভারে বোল্যান্ডের প্রতিরোধ ভাঙেন মুল্ডার। একাদশে ফিরে ২৯ ওভার বোলিং করে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার ব্যাট হাতে ১৬৬ বলে করেন ৪০। নিজের পরের ওভারে প্যাট কামিন্সকেও বোল্ড করে দেন মুল্ডার। এরপর মিচেল স্টার্ককে নিয়ে কিছুটা লড়াই করেন কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারি। স্টার্ককে বোল্ড করে ৪৮ রানের জুটি ভাঙেন রাবাদা। দুই ওভার পর জশ হেইজেলউডকে স্লিপের ক্যাচ বানিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন ইয়ানসেন। সিরিজের ফয়সালা হবে আগামী মঙ্গলবার শুরু কেপ টাউন টেস্টে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত