
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে স্পিনারদের সহায়তা দিতে উইকেট বানিয়ে জেতার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিজেদের বানানো কৌশল বুমেরাং হয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তদের। মিরপুরের ডেরায় ক্যারিবিয়ান স্পিনে ব্যাটাররা হলেন কুপোকাত। পরে নিজেদের স্পিনাররা থাকলেন বিবর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে বড় হারে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
শনিবার মিরপুরে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আলোকস্বল্পতা, বৃষ্টি, বজ্রপাত—অনেক কারণে খেলা বাধা পেলেও চতুর্থ দিনেই শেষ হয়ে গেল ম্যাচ। দলকে জিতিয়ে ৮১ রানে অপরাজিত ছিলেন ব্র্যান্ডন কিং। জন ক্যাম্পবেল ৫৫ বলে করেন ৪৯। কেভাম হজ ২৭ বলে অপরাজিত ছিলেন ৩১ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের নায়ক অবশ্য তারা কেউ নন। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৬ রানে ৫ উইকেট নেন রোস্টন চেজ, ৬৩ রানে ৪ উইকেট নেন জোমেল ওয়ারিকন। ম্যাচে এই বাঁহাতি স্পিনার নেন ৯ উইকেট। অসমান বাউন্স, টার্নিং উইকেটে ১৭০ রানের ট্রিকি লক্ষ্যে শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিল সফরকারীরা। বেশ কয়েকবারই তৈরি হয় সুযোগ। তবে উইকেট আসেনি। ক্যারিবিয়ান দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং আর জন ক্যাম্পবেল মিলে গড়েন শতরানের জুটি। একাধিকবার খেলা বন্ধ হলেও তাদের মোমেন্টাম নষ্ট হয়নি। ওয়ানডে মেজাজে রান তোলা ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম উইকেট হারায় ২১তম ওভারে। তিন স্পিনার ব্যর্থ হলে পেসারদের হাতে দেওয়া হলো বল। ক্যাম্পবেলকে ভেতরে ঢোকা বলে বোল্ড করেন শরিফুল ইসলাম। তিনে নামা ত্যাগনারায়ন চন্দরপল পুল করে হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ দেন খানিক পর। হাসান কয়েকবার পরাস্ত করেন ব্যাটারদের। তবে তা উইকেট নেওয়ার মতো যথেষ্ট ছিল না। অবশ্য তার বলে ক্যাচ ফসকেছে। স্লিপে একবার কিংয়ের ক্যাচ ফেলেন অধিনায়ক শান্ত। পরে তার ক্যাচ পড়ে বদলি নামা ইবাদত হোসেনের হাত থেকে। মিরপুরের উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোমেল ওয়ারিকন, রোস্টন চেজ যেভাবে বল টার্ন করিয়েছেন, সুযোগ তৈরি করেছেন তার ছিঁটেফোটাও করতে দেখা যায়নি তাইজুল ইসলাম মেহেদী হাসান মিরাজদের। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের তিন স্পিনারই ছিলেন উইকেটশূন্য।