
চুয়াডাঙ্গায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নতুন বছরের প্রথম দিনে নতুন বই হাতে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরছে, কেউ কেউ খুশিতে উল্টে দেখছে পাতা। তাদের মাঝে যেন এক আনন্দের উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি এলাকায় ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। তবে এবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ ‘বই উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়নি।
সকাল থেকেই স্কুলে ভিড় জমাতে শুরু করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে নতুন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট যাচাই করে শিক্ষকরা হাতে তুলে দিচ্ছেন নতুন পাঠ্যবই।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সকালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়। বেলা ১১টার পর তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই দেওয়া হয়েছে।
নতুন বই পেয়ে শিশুদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। তবে প্রাথমিকের এই আনন্দের চিত্রটি সব জায়গায় এক নয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দেখা গেছে ভিন্ন বাস্তবতা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ বই পৌঁছালেও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চাহিদামতো বই না আসায় শিক্ষার্থীরা বই পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪৪৫টি প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৮৩ হাজার ২৪১ কপি পাঠ্যবই দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে জেলার ১৪৩টি মাধ্যমিক, দাখিল, দাখিল (ভোকেশনাল) ও কারিগরি স্তরের পাঠ্যপুস্তকের জন্য ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪৮০টি চাহিদা দেওয়া হলেও সেখানে বই পেয়েছেন ৬ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০টি।
এবারের বই বিতরণে নেই কোনো উৎসব বা আনুষ্ঠানিকতা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এর মধ্যেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের কারণে বই বিতরণকালে সব ধরনের উৎসব ও অনুষ্ঠান পরিহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।