ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

কিশোরগঞ্জে ৬১ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

কিশোরগঞ্জে ৬১ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল

কিশোরগঞ্জে এমপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাইয়ে জাতীয় পার্টির একাংশের আলোচিত নেতা মুজিবুল হক চুন্নুর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ ( করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে এমপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। রূপালী ব্যাংকের ঋণখেলাপির কারণ দেখিয়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা।

রোববার (৪ জানুয়ারি) ছিল কিশোরগঞ্জের ছয়টি আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-১,২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই বাছাই। গতকাল শনিবার ছিল কিশোরগঞ্জ ৪,৫ ও ৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাইবাছাই।

সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার নেতৃত্বে চলে এ যাচাইবাছাইয়ের কাজ। এ সময় পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যাচাইবাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে তিন আসনের মোট ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ১৮ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। বাতিল প্রার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগই স্বতন্ত্রপ্রার্থী।

মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে শতকরা একভাগ ভোটারের স্বাক্ষরের গরমিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া কয়েকজন প্রার্থীর সম্পদের হিসাব, হলফনামায় ত্রুটি ও মামলার তথ্য গোপন ও ঋণ খেলাপির কারণ দেখানো হয়।

কিশোরগঞ্জ-১ (সদর- হোসেনপুর) আসনে প্রার্থী ছিলেন মোট ১৩ জন। তাদের মধ্যে ৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রর্থীরা হলেন— ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হেদায়াতুল্লাহ হাদী, স্বতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) মো. রোজাউল করিম খান চুন্নু, খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, স্বাতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) রুহুল হোসাইন ও খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এক ভাগ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়া যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জামায়াতের প্রার্থী মোসাদ্দেক ভূঞা, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) তারেক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, স্বতন্ত্রপ্রার্থী ( বিএনপি বিদ্রোহী) সাবেক সাংসদ মো. মাসুদ হিলালী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মো. এনামুল হক, বাসদের (মার্কসবাদী) আলাল মিয়া ও বাসদের মো. মাসুদ মিয়ার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের ( বিএনএফ) মো. বিল্লাল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবুল বাসার রেজওয়ান ও গণ অধিকার পরিষদের মো. শফিকুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

তাছাড়া এ আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, স্বতন্ত্রপ্রার্থী সাবেক এমপি মো. আনিসুজ্জামান খোকন, জাতীয় পার্টির মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া, জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মো. শাহরিয়ার জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। এ আসনে মোট ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।

কিশোরগঞ্জ-৩ ( করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মোট ১০জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন— জাতীয় পার্টির একাংশের আলোচিত নেতা মুজিবুল হক চুন্নু, গণতন্ত্রী পার্টির দিলোয়ার হোসাইন ভূঁইয়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম আলমগীর ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) জাহাঙ্গীর আলম মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এ আসনে যাদের মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে তারা হলেন— বিএনপি প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক, জামায়াতের প্রার্থী জেহাদ খান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আতাউর রহমান শাহান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আলমগীর হোসাইন।

গতকাল শনিবার কিশোরগঞ্জ-৪, ৫ও ৬ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওইদিন ২৯ প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। সব মিলিয়ে দু’দিনে ৬১ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে মোট ৩৭ জনের মনোনয়নপত্র।

কিশোরগঞ্জ,প্রার্থী,মনোনয়নপত্র বাতিল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত