
দেশের কৃষকরাই সত্যিকার অর্থে কৃষি বোঝেন বলে মন্তব্য করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। তিনি বলেন, খাদ্যের বড় একটি যোগান দিচ্ছে দিনাজপুর, আর এই সাফল্যের মূল কারিগর এ দেশের কৃষকরা।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন, নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করেন কৃষকদের জন্য, কিন্তু কৃষকরা কষ্ট করে সেসব ফসল উৎপাদন না করলে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতো না। কৃষকরাই তাদের শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তুলছেন।
শনিবার বিকেলে দিনাজপুরের নশিপুর এলাকায় বাংলাদেশ পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে আয়োজিত কৃষকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি পাট ও গম চাষ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
কৃষি সচিব বলেন, পাটের উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়াতে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ পাট আবাদ হয়, তার জন্য প্রয়োজনীয় বীজের একটি বড় অংশ ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশে পাট বীজ উৎপাদনে সক্ষমতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাড়াতে নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের চাহিদা মিটিয়েও উৎপাদিত পাট বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, পাটের পাশাপাশি দেশে গমের আবাদ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে গমের ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত এবং এ রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। গম ক্ষেতে আগাছা দমনসহ ফলন বৃদ্ধির জন্য লাগসই ফসল ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে এবং নতুন নতুন গমের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলমান রয়েছে। এসব গবেষণার ফলে দেশে মানসম্মত গম বীজের সংকট নিরসনে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এর আগে কৃষি সচিব নশিপুরস্থ বাংলাদেশ পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের পাট বীজ উৎপাদন ক্ষেত পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি দিনাজপুর পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল পাট ও পাটজাত আঁশ ও বীজ ফসলের উন্নত জাত এবং উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।
পরে তিনি বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আয়োজিত গম বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ে কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোঃ মাহফুজ বাজ্জাজ, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গিস আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক মোঃ ওবায়দুর রহমান মন্ডল, বিডাব্লিউএমআরআই প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের পরিচালক ড. মোঃ আব্দুল হাকিম, অতিরিক্ত পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন, দিনাজপুর পাট বীজ উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মোস্তানছির বিল্লাহ, জেএফএ মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের জানানো হয়, পাট একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল। শুধু আঁশ নয়, পাটের বীজ উৎপাদনের মাধ্যমেও কৃষকরা লাভবান হতে পারেন। পাট চাষ সম্প্রসারণে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতেও পাটের গুরুত্ব অপরিসীম। এ কারণে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া আলোচনায় বলা হয়, বর্তমানে দেশে গমের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। গমের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এ লক্ষ্যে কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়াসহ নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে উন্নত জাত উদ্ভাবনে কাজ করে যাচ্ছেন, যার ফলে গম চাষে বিদ্যমান সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান হবে এবং কৃষকরা গম আবাদ করে লাভবান হবেন। গমের উন্নত জাত নির্বাচন, বিশুদ্ধ বীজ উৎপাদনের কৌশল, রোগ-বালাই ও আগাছা ব্যবস্থাপনা এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়েও প্রশিক্ষণে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সদর, কাহারোল, বীরগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন।