
ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের বিরুদ্ধে নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত ও বিতর্কিত করার অভিযোগ তুলে তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
গত ১০ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব বরাবর এ আবেদন দাখিল করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে এরই মধ্যে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। কিন্তু সারাদেশে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরা এ নির্বাচন বানচালে ও বিতর্কিত করতে এরই মধ্যে নানা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এমনই একজন কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক। প্রশাসন পাড়ায় তিনি একজন চিহ্নিত দোসর হিসেবে পরিচিত।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬তম ব্যাচের কর্মকর্তা উমর ফারুক ২০১৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়, চট্টগ্রামে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। যোগদান করেই আওয়ামী লীগ নেতাদের মাধ্যমে তদবির করিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চট্টগ্রামে পোস্টিং নেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এ পোস্টিং নেওয়ার পর চট্টগ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট জেলা প্রশাসক মমিনুর রহমান এর মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সেই সিন্ডিকেটের ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগের ভোটের জন্য মোনাজাত করা ডিসি মমিনুর রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে বাগিয়ে নেন চট্টগ্রাম কাট্টলী সার্কেলের এসিল্যান্ড পোস্টিং। কাট্টলী সার্কেলের এসিল্যান্ড থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে দালালদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট গড়ে টাকা কামিয়েছেন এই উমর ফারুক। সহকারী কমিশনার (ভূমি) থেকে পরবর্তী পোস্টিং বাগিয়ে নেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঢাকায়। এই পদায়নের ক্ষেত্রেও সেই ফ্যাসিস্ট ডিসি মমিনুর রহমানসহ প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতা নেন। ওই সময়ে নিজেকে পরিচয় দিতেন আওয়ামী পরিবারের সদস্য হিসেবে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে জুলাই আন্দোলন দমনে সর্বশক্তি নিয়োগ করে ম্যাজিস্টেরিয়াল দায়িত্ব পালন করেছে এই উমর ফারুক। ছাত্র ছাত্রীদের উপর নির্বিচারের অত্যাচার ও পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারার আদেশ দিয়েছেন তিনি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী সরকারের পতন হলে ঢাকা ডিসি অফিসে ঘাপটি মেরে থাকেন তিনি। সম্প্রতি সময়ে ভোল পালটে বাগিয়ে নিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও’র পদ। দায়িত্ব নিয়েই জড়িয়ে পড়েছেন অনিয়ম ও দুর্নীতি। এরই মধ্যে একটি দলকে বিজয়ী করতে মড়িয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। এনিয়ে অন্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় আবেদনকারীরা তাকে কেরানীগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যাহারের পাশাপাশি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলেও আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে একটি মহল। আপনি খোঁজ নিতে পারেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, আমরা অভিযোগটি পেয়েছি। এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।