ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ধানের শীষে ও গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

ধানের শীষে ও গণভোটে হ্যাঁ দেওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণঅভ্যূত্থানে রংপুরের আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের ওয়াসিসহ যারা জীবন উৎসর্গ করেছে, এমন হাজারো মানুষের জীবন উৎসর্গের মূল্যায়ন করতে আমাদের জুলাই সনদকে সম্মান করতে হবে। এজন্য সকলের প্রতি অনুরোধ, ধানের শীষে সিলের সাথে দ্বিতীয় ব্যালেটে হ্যাঁ-এর পক্ষে আপনারা রায় দেবেন।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে রংপুর বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচার সরকারের আমলে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং কম-বেশি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সংস্কার প্রস্তাবনা দিয়েছিল। সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনায় আমাদের কিছু জায়গায় দ্বিমতও ছিল, সেগুলো আমরা লুকাছুপি করিনি। আমরা জনগণের সামনে প্রকাশ্যে বলেছি কোনটিতে সম্মতি দিয়েছি আর কোনটিতে আমাদের দ্বিমত রয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের মতো নির্বাচন এবার হতে দেব না। ১২ তারিখ ফজরের পর ভোটকেন্দ্রে যাবেন। জনগণ এবার সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী করবে। কাজেই মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—যে যেখানে আছেন—সকলেই সকাল সকাল ভোট সেন্টারে গিয়ে লাইনে দাঁড়াবেন, যাতে কেউ ষড়যন্ত্র করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, একটি দল গেল কয়েকদিন ধরে আমাদের সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছে। তারা বলেছে, তাদের দু’জন সদস্য আমাদের সরকারের আমলে মন্ত্রী ছিলেন। তারা বলেছেন তাদের মন্ত্রীরা ভালো ছিল, আর আমাদের মন্ত্রীরা খারাপ ছিল। আমার প্রশ্ন হলো, ভালো মানুষের সাথে ভালো মানুষ থাকে। তাদের মানুষ যদি ভালোই হয় আর বিএনপি যদি খারাপই হয়, তাহলে পুরো মেয়াদে কেন তারা আমাদের সাথে ছিল। খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমনে সফল ছিলেন। তাই বিএনপি’র পক্ষেই সম্ভব দেশে দুর্নীতি দমন করা।

তারেক রহমান বলেন, আমাদের শক্তি হচ্ছে জনগণ, তাই আমরা দেশের জনগণের কাছে ফিরে যেতে চাই। আসুন আজ সময় এসেছে ষড়যন্ত্রের জবাব দেওয়ার। আজ সময় এসেছে শহীদ আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের। সব সময় সৎ সুযোগ আসে না। যেহেতু দেশ পরিচালনার জন্য সৎ সুযোগ এসেছে, তাই এই সুযোগকে দেশের কাজে, জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে, যেন আমরা আগামী দিনে সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তুলতে হলে সকলকে একসাথে পরিশ্রম করতে হবে। তাহলে উত্তরাঞ্চলসহ রংপুর বিভাগ কখনই মঙ্গাপীড়িত থাকবে না, কোনোভাবেই অনুন্নত থাকতে পারে না। এই অবস্থা পরিবর্তনের জন্য আপনাদের সমর্থন লাগবে। আবু সাঈদের প্রত্যাশিত দেশ গড়ার জন্য আগামী ১২ তারিখে বিএনপিকে বিজয়ী করতে হবে এবং ১৩ তারিখ বিএনপি সরকার গঠন করলে দেশের উন্নয়নে কাজে হাত দেবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। খাল খনন করা হবে, বন সংরক্ষণসহ উত্তরের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। এসব কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, রংপুর বিভাগকে আমি গরিব অঞ্চল মনে করি না। এটি একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চল। শুধু দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক নেতৃত্ব। তাহলে এ বিভাগের আমূল পরিবর্তন হতে পারে। জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বোরো আবাদ চালু করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার সময় উত্তরের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কিন্তু বিগত ১৬ বছরে তথাকথিত উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে।

সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, মিল-কারখানা কিছুই এখানে করা হয়নি। শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের সময় আমি জানতে পারলাম, রংপুরে কয়লা আছে। এই কয়লা যদি আমরা উত্তোলন করতে পারি, তাহলে অনেক কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।

কৃষি বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছর দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি কৃষকরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। কৃষিজাত পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা কষ্টে রয়েছে। তাই আমরা হিসাব করেছি, যেসব কৃষক ভাইদের ঋণ ১০ হাজার টাকার নিচে রয়েছে, ক্ষমতায় গেলে তাদের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা নিবন্ধিত এনজিও থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করেছে, আগামী ১২ তারিখ বিএনপি নির্বাচিত হলে তাদের সেই ঋণও পরিশোধ করতে হবে না।

শিল্পকারখানা সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে উত্তরে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করতে চায় তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে, যেন তারা এখানে মিল-ফ্যাক্টরি স্থাপনের কাজ শুরু করেন। এর ফলে এই এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আইটি কোম্পানিগুলোকে এখানে এসে কোম্পানি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে, যেন এই এলাকার ছেলে-মেয়েরা সেখানে কাজ করতে পারে। নির্দিষ্ট মেয়াদে কোম্পানিগুলোকে করছাড় দেওয়া হবে।

নারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এজন্য প্রতিটি ঘরে ঘরে মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সেই কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণী মায়েদের কাছে সহযোগিতা পৌঁছে দিতে চাই। এর ফলে নারীরা ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হবে এবং অর্থনীতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক কৃষকের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। আমরা নির্বাচিত হলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ থাকলে তা মওকুফ করব এবং কার্ডের মাধ্যমে জমি অনুযায়ী অন্তত একটি ফসলের বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে।

তিনি বলেন, নিরাপদ ব্যবস্থা তৈরি করতে আপনাদের সমর্থন প্রয়োজন। আপনাদের সমর্থন থাকলে বিএনপি দেশে শক্তভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। বিএনপির অতীত ইতিহাস রয়েছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের। অতীতে বিএনপি দেখিয়েছে, সঠিকভাবে ও শক্তভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, কেন্দ্রীয় নেতা এ জেড এম জাহিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলুসহ অন্যরা।

গণভোটে হ্যাঁ,ধানের শীষ,তারেক রহমান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত