
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বাধীনতা রক্ষা, গণতন্ত্র এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে। জামায়াতের হাতে কখনো দেশ নিরাপদ নয়, তারা ৭১ সালে পাকিস্তানিদের সহযোগিতা করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ফাড়াবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী গণসংযোগকালে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি ঠাকুরগাঁওকে সম্প্রীতির জেলা করতে চাই। আমরা অতীতে যেভাবে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ভুলে একসাথে বড় হয়েছি, আমরা সেভাবেই থাকতে চাই। ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন, আইটি ট্রেনিং সেন্টার চালু করে কৃষক ও যুবকদের কাজের সংস্থানের মাধ্যমে আয় বাড়াতে চাই। মেয়েদের নার্সিং ট্রেনিং দিয়ে দেশে বিদেশে চাকরি করে স্বনির্ভর করতে চাই। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করে সরকারিভাবে বিদেশে চাকরির সুযোগ করে দিতে চাই।
তিনি সনাতনীদের উদ্দেশ্যে করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দিব না। আপনারা কোনো ভয় করবেন না। আপনারা নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন।
তিনি বলেন, আমরা আগে ভোট করতে পারিনি। ১৮ সালের ভোটে ছিলাম আমরা, কিন্তু সে সময় আগের রাতেই ভোট হয়ে গিয়েছিল। আমরা এখন একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি যার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
মহাসচিব বলেন, আপনাদের ভোটের মাধ্যমে আমি ঠাকুরগাঁওয়ের জন্য কিছু কাজ করতে চাই। আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, আমরা নির্বাচিত হলে প্রথমেই ৫০ লাখ মায়ের ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়া হবে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড করে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও পানি পাবে।
তিনি বলেন, আমরা নির্বাচিত হলে কৃষকদের কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ মাফ করে দেওয়া হবে এবং বিভিন্ন এনজিওতে মায়েদের যে ঋণ রয়েছে, তাদের সেই ঋণ মাফ করে দেওয়া হবে। দেড় বছরের মধ্যে ১ কোটি বেকারের চাকরির ব্যবস্থা করা হবে।
জামায়াতের এমপি প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে হলে নিজের অবস্থানটা বুঝতে হবে। তাই ব্যক্তি সমালোচনা করতে হবে হিসেব করে। আমি ব্যক্তি সমালোচনা বরাবরই করি না।
হিন্দু সনাতনীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের মধ্যে একটা ভয় কাজ করে। আপনারা কোনো ভয় করবেন না। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকতে আপনাদের কোনো ক্ষতি হতে দিব না।
জামায়াতে ইসলাম নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলাম খুব কথা বলছে। ১৯৭১ সালে আপনারা কোথায় ছিলেন, কাদের হয়ে কাজ করেছিলেন। ৭১ সালে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তানের হয়ে কাজ করেছিলেন। জামায়াত পাকিস্তানিদের সঙ্গ দিয়ে স্বাধীনতাকে বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল।
মির্জা ফখরুল বলেন, যারা আমাদের দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে, মানুষের আয় ইনকাম বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পদ বের করবে, ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করবে, কৃষক যেন ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও তেল পায় সেই ব্যবস্থা বিএনপি করবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি আপনাদের পুরাতন মানুষ, বিএনপি পরীক্ষিত দল, বিএনপি কখনো আমানতের খিয়ানত করে না।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু করা হবে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে।
ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রত্যেকের হাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে পারবেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ, তেল ও কৃষিপণ্য ক্রয় করতে পারবেন। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকের ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে, নারীদের এনজিও ঋণের কিস্তির দায়িত্ব এক বছরের জন্য সরকার নেবে, দেড় বছরে এক কোটি যুবকের চাকরির ব্যবস্থা করাসহ নানা প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি, উপজেলা বিএনপি, ওয়ার্ড বিএনপিসহ সাধারণ ভোটাররা।