
দেশ স্বাধীন হওয়ার এত বছর পরও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন নিশ্চিত না হওয়াকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; প্রশাসন, শিক্ষা, বাণিজ্য ও জনজীবনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, পাবলিক লাইব্রেরি সম্মুখে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভিন্ন সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনসহ কর্পোরেশনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মেয়র বলেন, ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সূচনা। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ পরবর্তীতে স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সেই চেতনা পূর্ণতা পায়। মানুষের মৌলিক অধিকার, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতি বারবার সংগ্রাম করেছে।
“স্বাধীনতার পরও বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত ছিল। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গত ১৬ বছরে মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বহু মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের আন্দোলনেও ছাত্র, শ্রমিক, জনতা, রাজনীতিবিদ এমনকি শিশুরাও প্রাণ দিয়েছেন। এসব আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপটে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশের জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে কার্যক্রম শুরু করেছেন তা আশাব্যঞ্জক। প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
তিনি বলেন, আজও আমরা লক্ষ্য করি নগরীর বিভিন্ন দোকান, শপিং সেন্টার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি নামফলকের আধিক্য রয়েছে। যেহেতু সিটি কর্পোরেশন ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে, সেহেতু চট্টগ্রামের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন উদ্যোগ নিয়েছে। প্রয়োজনে নির্দেশনা ও তদারকির মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।
মেয়র আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলন—প্রতিটি অধ্যায়ে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের নেতৃত্ব একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো ন্যায়, স্বচ্ছতা ও মানবিক মূল্যবোধভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষা ব্যবস্থা ও জনসেবায় বাংলা ভাষার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভাষা আন্দোলনের আদর্শ ধারণ করে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।