
সিরাজগঞ্জে মৌসুমি খিরা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ খিরা হাট-বাজারে উঠছে। কম খরচে উৎপাদিত খিরার বাজার এখন ভালো এবং রমজানে খিরার চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকেরা খুশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলায় এবার প্রায় ২৫২ হেক্টর জমিতে খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। লাভজনক এ চাষে কৃষকেরা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সিরাজগঞ্জের চলনবিল এলাকার তাড়াশ, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ চাষ বেশি হয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫ টি উপজেলার চরাঞ্চলে এ খিরা চাষাবাদ ভালো হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, এ জেলার চরাঞ্চলসহ খাল বিল, নদী নালা এলাকার বালুর স্তর জমিতে খিরার চাষ বেশি হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা এ চাষে ঝুঁকে পড়ে। এরমধ্যে দেশীয় ও হাইব্রিড ২ জাতের খিরা চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কৃষকেরা জমি থেকে খিরা উত্তোলন শুরু করছে। এ নতুন খিরা বিভিন্ন হাট-বাজারে উঠছে এবং এ খিরা সরবরাহে কৃষকেরা ভ্যান, ট্রলিসহ নানা বাহনে বস্তা ভর্তি খিরা প্রতিদিন হাট-বাজারে নিচ্ছে। বিশেষ করে এসব এলাকার বর্ধনগাছা, হাটিকুমরুল, সলংগা, পাচলিয়া, বোয়ালিয়া, নওগাঁ, মোহনপুর, নলকাসহ বিভিন্ন স্থানে খিরার আড়ত থেকে পাইকারীরা কৃষকদের কাছ থেকে খিরা কিনছেন।
এছাড়া ব্যবসায়ীরা রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ খিরা সরবরাহ করছে। রমজানের শুরুতেই স্থানীয় হাট-বাজারে এ খিরা কৃষকেরা এখন ৬০/৭০ টাকা কেজি বিক্রি করছে এবং খুচরা বাজারে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে প্রতিমণ খিরা ২ হাজার টাকা থেকে ২২’শ টাকায় ক্রয় করছে। এছাড়াও এলাকার খিরার আড়ত থেকে ট্রাকযোগে সরবরাহ হচ্ছে। তবে পবিত্র রমজানে এ খিরার চাহিদা বাড়ছে। যে কারণে খিরার দাম বেশি এবং কৃষকেরাও খুশি।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কৃষি কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কৃষকেরা খিরা চাষ বেশি করেছে। এ চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ খিরা চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।