
আকস্মিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে কয়েক সেকেন্ডের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে সাতক্ষীরাসহ সারা দেশ।
ভূমিকম্প অনুভূত হতেই আতঙ্কিত হয়ে ঘরে ছেড়ে রাস্তা বেরিয়ে আসে সাধারণ মানুষ। ভূমিকম্পে শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন তারা। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া অনেকে আতঙ্কিত হয়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যান। স্মরণকালের সর্বোচ্চ ভূমিকম্প বলে দাবি করেছেন অনেকে। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি। শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে।
আশাশুনিতে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, নামাজ শেষ হওয়ায় সাথে সাথে এমন ঝাঁকুনি দিল যে বুকের মধ্যে কাঁপন সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘদিন এমন ঝুঁকি অনুভূত হয়নি। স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প বলে দাবি করেন তিনি।
সাতক্ষীরা শহরের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কাঁপুনি শুরু হতেই শিশু বাচ্চাটাকে কোনো রকমে কোলে নিয়ে রাস্তা বেরিয়ে পড়েছিলাম। এখনো বুক ধড়ফড় করছে।
শহরের মিনি মার্কেট এলাকার শরিফুল ইসলাম বলেন, দোকানে কাজ করছিলাম এক ঝাঁকুনিতেই দৌড়ে রাস্তায় চলে গিয়েছিলাম।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ ও আবহাওয়াবিদ জুলফিকার আলী রিপন জানান, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি স্থল সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকায়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৪।
এর আগে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সদরে ৪.১ মাত্রার আরও একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল প্রায় ১৫০ কিলোমিটার। গভীরতা বেশি হওয়ায় ভূমিকম্পটির প্রভাব ছিল তুলনামূলকভাবে মৃদু। এতে তখনও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।