
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের)-এর দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে।
এর আগে, সোমবার (২ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইল জেলা সদর হেলিপ্যাডে প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে কোর্ট বিল্ডিং মসজিদের পেশ ইমাম মওলানা হাফিজুর রহমান প্রথম জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। এরপর বেলা ৩টায় সখীপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বেরবাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজা শেষে স্থানীয় সামাজিক গোরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের)-এর মরদেহ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে টাঙ্গাইলে এসে পৌঁছায় সোমবার (২ মার্চ) ভোরে।
রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মরদেহ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয় বলে জানান বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোর্তজা। রাতে বেনাপোল-পেট্রোপোল শূন্যরেখায় তার মরদেহ ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাংলাদেশি একটি ফ্রিজিং লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে তুলে নেওয়া হয়।
পরে সেই ফ্রিজিং লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে করে টাঙ্গাইল শহরের ছোট কালিবাড়ী এলাকায় নিজ বাসভবনে আনা হয়। সেখানে থেকে জেলা সদর হেলিপ্যাডে বেলা ১২টায় প্রথম জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের ছোট ভাই আতোয়ার রহমান জানান, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ২০ মিনিটে ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে দমদমের ফিনিক্স মেডিক্যাল সেন্টার নামে হাসপাতালে এক সপ্তাহের বেশি সময় ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন সাবেক এমপি জোয়াহের। মৃত্যুর তিন দিন আগে থেকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) মাল্টি অর্গান ফেইলিওর ও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। মৃত্যুর সময় তার পাশে স্ত্রী ও মেয়ে উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মেয়ে ও স্ত্রী মেডিকেল ভিসায় কলকাতায় যান।
সরকারের অনুমতি পেয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) পাওয়ার পর তার মরদেহ দেশে আনা হয়।
মরহুমের জানাজা নামাজে অংশ নেন কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, কেন্দ্রীয় সদস্য ও কালিহাতী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম আল মনসুর আজাদ সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলের সাবেক পিপি এস আকবর খান, টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি মোনায়েম হোসেন খান আলম, সাধারণ সম্পাদক সাদিউর রহমান স্বপন, সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আলো, আইয়ুব আলী, শামীমুল আক্তার শামীম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহান শাহ সিদ্দিকী মিন্টু, মহসিন সিকদার, শামসুদ্দিন শামস, গণসঙ্গীত শিল্পী এলেন মল্লিক, টাঙ্গাইল জেলা সিপিবি’র সভাপতি নাছিমুল আক্তার সেলিম, সাবেক এমপি জোয়াহেরুল ইসলামের ছোট ভাই আতোয়ার রহমান, সখীপুরের গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সখীপুরী, অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান খান হুমায়ুনসহ সখীপুর ও বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রকাশ, জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের পেশায় টাঙ্গাইল আদালতের একজন আইনজীবী ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইলের করটিয়া সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদের দু’বারের নির্বাচিত ভিপি এবং টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি ভিপি জোয়াহের নামেও পরিচিত ছিলেন।
২০১৭ সালে তিনি টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বিগত ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বিগত ২০২৪ সালের (৫ আগস্ট) এর পর তিনি ভারতে যান এবং কলকাতায় বসবাস শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক মামলা রয়েছে।