
বাঁশের খুঁটি আর পাটকাঠির তৈরি মাচায় সবুজ লতায় ভর করে ঝুলছে টমেটো। পাতার ফাঁকে ফাঁকে লাল টকটকে এই টমেটো যেন মাঠজুড়ে রঙের ছটা ছড়িয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বাঘহাছলা মাঠে মাচান পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে এমনই সাফল্যের মুখ দেখেছেন স্থানীয় কৃষক আসলাম।
রমজান মাসে বাজারে টমেটোর চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় কয়েক মাসের পরিশ্রমের সুফল পাচ্ছেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে উচ্চফলনশীল ‘বিজলি-১১’ ও ‘সুলতান সোলেমান’ জাতের টমেটো আবাদ করেছেন।
আসলাম জানান, মাচান পদ্ধতিতে চাষ করলে গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে না, ফলে পচনের ঝুঁকি কমে। একই সঙ্গে ফলনও হয় তুলনামূলক বেশি। তার হিসেবে, চারা রোপণ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারদর ধরে প্রতি বিঘা জমি থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন তিনি। তবে সাফল্যের মাঝেও ক্ষোভ আছে তার।
আসলামের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা সহায়তা নিয়মিত পাওয়া যায় না। যোগাযোগ করলে নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, সরকারি তদারকি ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর সমন্বয় হলে এ অঞ্চলের টমেটো দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
অবশ্য কৃষক আসলামের অভিযোগ নাকচ করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মোমিন। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মাচান পদ্ধতিতে সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা সহজ হয় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকে। এ কারণে এবার ফলন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দাবি তার।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকায় কৃষকেরা ভালো লাভ পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই কর্মকর্তা।