ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চমেকে গাছ কাটার অভিযোগে পরিবেশকর্মীদের মানববন্ধন

চমেকে গাছ কাটার অভিযোগে পরিবেশকর্মীদের মানববন্ধন

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ-এর নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণের জন্য অর্ধশতাধিক গাছ কাটার উদ্যোগের শুরুতেই প্রতিবাদে সরব হয়েছেন পরিবেশকর্মীরা। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবিতে মানববন্ধন ও সংশ্লিষ্টদের দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

অর্থোপেডিক সার্জন ডা. মনজুরুল করিম বিপ্লব জানান, ‘চট্টেশ্বরী সড়কে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ প্রধান ছাত্রাবাস সংলগ্ন শতবর্ষী গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। এই দৃশ্য শুধু উদ্বেগের নয়, গভীর ক্ষোভেরও। এই গাছগুলো কেবল কিছু কাঠ নয়, এগুলো এই নগরের ইতিহাস, ছায়া, পরিবেশের ভারসাম্য এবং হাজারো মানুষের স্মৃতির নীরব সাক্ষী। শত বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষগুলোকে এভাবে নির্বিচারে কেটে ফেলা মানে শুধু পরিবেশের ওপর আঘাত নয়, এটি আমাদের নগর সভ্যতার প্রতি চরম অবহেলা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, অবিলম্বে এই গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং শতবর্ষী বৃক্ষগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হোক। মনে রাখতে হবে, একটি গাছ বড় হতে লাগে বহু দশক, কিন্তু কেটে ফেলতে লাগে মাত্র কয়েক মিনিট। আজ যদি আমরা নীরব থাকি, আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। চট্টগ্রামের সবুজ ধ্বংসের এই সিদ্ধান্ত বন্ধ হোক এখনই।’

রোববার (৮ মার্চ) বেলা তিনটায় চমেক প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচিতে গাছ কাটা বন্ধে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বক্তারা। পরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন-এর মেয়র, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও চমেক অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গাছগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জমির ভেতরে হওয়ায় বন বিভাগের কর্মকর্তারা ৬৬টি গাছে দাগ দিয়েছেন। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা হলেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সরাসরি বাধা দেওয়া কঠিন বলে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে অনুমতি ছাড়া গাছ কলেজের আঙিনার বাইরে নেওয়া হলে তা জব্দ করার সুযোগ রয়েছে।

তারা পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চমেক এলাকায় গাছ কাটা ও পাহাড় কাটার কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করা, জরুরি তদন্তের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় শতবর্ষী গাছ সংরক্ষণ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন সম্পন্ন করা, প্রয়োজন হলে বিকল্প বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করা এবং পাহাড় কাটার বিষয়ে আইন অনুযায়ী অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র আছে কি না তা তদন্ত করা।

চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম জানান, গাছ কাটার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ অনুমোদন নেয়নি। পরিদর্শনে গিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ছাত্রদের জন্য একটি ১৮ তলা এবং ছাত্রীদের জন্য ৮ তলাবিশিষ্ট দুটি ভবনসহ মোট তিনটি ভবন নির্মাণ হবে। এ কারণে কিছু গাছ কাটার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে একটি গাছ অনেক পুরোনো হওয়ায় কেটে ফেলা হয়েছে।

পরিবেশকর্মীদের মানববন্ধন,গাছ কাটার অভিযোগ,চমেক
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত