
ঈদ-উল-ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সাতদিন ধরে চসিকের উদ্যোগে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে উপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এছাড়া প্রায় ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি এই কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য তিনটি গেট খোলা রাখা হবে, পাশাপাশি পেছনের গেটটিও ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভিড় বা হুড়োহুড়ি না হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নয়, আমাদের সবার। চসিকও এ ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা একটি 'সেফ সিটি' বা নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
মাঠ পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর প্রথম ও প্রধান জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন হযরতুল আল্লামা আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী, খতিব, জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জাতীয় মসজিদ জমিয়াতুল ফালাহ'র সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।
এছাড়া নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যথাক্রমে লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।
পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া,সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদসহ চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।