
নগরীর কোতোয়ালী থানায় সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী তার বাবা জামাল উদ্দিনের জেরা চলছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামাল উদ্দিনকে জেরা করেন।
বুধবারের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-কে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আজও বাদীর জেরা হয়েছে। ১১ আসামি ও পলাতক ১৪ আসামির পক্ষে জেরা করা হয়েছে। আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তিনি আরও বলেন, আজকের শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে তার পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য আদালতে শুনানি করে তিন দফা সময় প্রার্থনা করেছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জিজ্ঞাসা করেন, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত আছেন কি না এবং তিনি জেরা করবেন কি না।
জবাবে তিনি জানান, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং সে জন্য সময় প্রার্থনা করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন।
২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত।
৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে গত বছরের ২৫ আগস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।