
সিরাজগঞ্জে এবার যমুনার চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে কালোজিরার চাষাবাদে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যেই চর জুড়ে কালোজিরা ফুলের সমারোহের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে এ বহুগুণের শস্যর দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চরাঞ্চলসহ জেলার ৯টি উপজেলায় এবার এ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩৭ হেক্টর জমিতে। কৃষকেরা এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগ চাষাবাদ যমুনা নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে হয়েছে।
এছাড়াও এ জেলার উল্লাপাড়া ও কামারখন্দসহ অন্যান্য স্থানেও এ চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। এর মধ্যে চৌহালী উপজেলার চরাঞ্চলের সদিয়া চাঁদপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি ও বারবয়লাচর, স্থল ইউনিয়নের সন্তোষা, মালীপাড়া ও গোসাইবাড়ি চর, ঘোরজান ইউনিয়নের ফুলহারা, উমারপুর ইউনিয়নের দত্তকান্দি, খাসকাউলিয়া ইউনিয়নের জোতপাড়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকেরা এবার কালোজিরার চাষাবাদ বেশি করেছে এবং উল্লেখিত ৪টি উপজেলার বিভিন্ন চরেও এ চাষাবাদ হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে এ কালোজিরা চাষাবাদ শুরু করা হয় এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ কালোজিরা বপন শেষ হয়। আর মার্চ মাসের শেষে দিকে এ ফসল কাটা ও মাড়াই শুরু হয়। প্রতি বিঘায় ৪ মণ কালোজিরা উৎপাদন হয়ে থাকে এবং প্রতি মণ কালোজিরা সাড়ে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা বিক্রি হয়ে থাকে। এবার প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চাষীরা কৃষি বিভাগ থেকে সার ও বীজ পেয়ে এ চাষাবাদে আগ্রহ বাড়ছে।
তারা আরও বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে এ কালোজিরা চাষাবাদে ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি। বহুগুণের কালোজিরা দিয়ে কবিরাজী, আয়ুর্বেদীয়, ইউনানী ও লোকজ চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মশলা জাতীয় এ ফসল ৫ ফোড়নের একটি উপাদান এবং এ কালোজিরা ভর্তা খেতেও মজা। বিশেষ করে কালোজিরা থেকে তেল উৎপাদন করা হয় এবং এ তেলের চাহিদা বাজারে অনেক। এছাড়া কালোজিরাতে ফসফেট, লৌহ ও ফসফরাস জাতীয় উপাদানসহ প্রায় শতাধিক পুষ্টি ও উপকারী উপাদান রয়েছে এবং ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধকারী উপাদানসহ অম্ল রোগের প্রতিষেধক। কালোজিরা খাদ্যাভ্যাসের ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালোজিরা ফুলের মধু উৎকৃষ্ট মধু। এ মধুও বাজারে চাহিদা অনেক।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মনজুরে মাওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বহুগুণে এ কালোজিরা চরাঞ্চলেই বেশি চাষাবাদ হয়ে থাকে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে কালোজিরার ফুল ফোটে। এ ফুলে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে। এ মধুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে। এ চাষাবাদে এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে।