
২০২৬ সালে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড থেকে ২৯ হাজার ৫৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারছে না। রেজিস্ট্রেশন করলেও, পরীক্ষার আগেই ঝরে গেছে তারা। এই তালিকায় পাহাড়ি প্রত্যন্ত এলাকার পরীক্ষার্থী বেশি।
নবম শ্রেণিতে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন করেছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮৮০ জন। এসব শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফরম ফিলাপ করেনি ২৯ হাজার ৫৪২ জন।
ঝরে পড়ার পেছনে দারিদ্র্য, বাল্যবিয়ে, কর্মে প্রবেশ, পড়ালেখায় অনাগ্রহ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি, কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে পড়া অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বেশিসংখ্যক পরীক্ষার্থী ঝরে পড়া’র পেছনে আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়াকে দুষছে অনেক পরীক্ষার্থী।
এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিং নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। এবারের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিকে বাড়তি চাপ হিসেবে দেখছেন অভিভাবকেরা।
তারা বলছেন, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে শুরু হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষা। তীব্র গরমের মধ্যে দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। অনেক সময় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কারণে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের বেগ পেতে হচ্ছে বেশি।
পিডিবি বলছে, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রধান নির্বাহী বরাবরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড। বোর্ডের সচিব প্রফেসর জহিরুল হক স্বপন স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে সকাল ১০টা হতে বেলা ১টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।