
পাবনার ঈশ্বরদীজুড়ে চলমান তীব্র ও মাঝারি তাপপ্রবাহে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে; পাশাপাশি কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা।
বিশেষ করে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে এবং বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১০ দিন ধরে ঈশ্বরদী ও আশপাশের এলাকায় টানা তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।
বৈশাখের তীব্র গরমে দুপুরের পর সড়ক-মহাসড়কে মানুষের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যানবাহন চলাচলেও পড়েছে প্রভাব। শহর ও গ্রামের বাজারগুলোতেও ক্রেতা কমে যাওয়ায় কেনাবেচায় ভাটা পড়েছে। দুপুরের পর বাইরে বের হলেই তীব্র রোদে চোখ-মুখ ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হচ্ছে।
বৃষ্টি ও বাতাসের অভাবের সঙ্গে বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও কষ্টকর করে তুলেছে।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, ১২ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন ধরে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
আবহাওয়া অফিস জানায়, ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপপ্রবাহ এবং ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মাঝারি তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে উঠলে তা তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নেয়।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে উচ্চমাত্রায় রয়েছে। বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মৌসুমে প্রথম বৃষ্টি হয় ১১ মার্চ, সেদিন ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
এরপর ৩ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৩৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টি না হলে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঈশ্বরদী-বানেশ্বর আঞ্চলিক মহাসড়কে রিকশাচালক আবেদ আলি বলেন, তাপদাহে কাজ করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে, রোদে যেন শরীর পুড়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ধীমান তানভীর স্বাক্ষর জানান, এখনো বড় ধরনের ক্ষতি না হলেও তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে রোগবালাই বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে আম, কাঁঠাল ও লিচুর মুকুল ঝরে পড়ছে। ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন কমে যাওয়ার শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. ফারুক হোসেন জানান, তাপদাহ পোল্ট্রি খামারিদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ডিম ও মাংসের উৎপাদন কমে যেতে পারে।
পাশাপাশি গরু-ছাগলের দুধ উৎপাদন হ্রাস এবং খাদ্য গ্রহণের পরিমাণও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।