
দিনাজপুর জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. আলমগীর কবির বলেছেন, লিগ্যাল এইড পাওয়ার যোগ্য কোনো ব্যক্তিই যেন সরকারি আইনি সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি বলেন, আইনগত সেবা শুধু আইনি সহায়তা নয়, এটি একটি মানবিক সেবা। এই সেবাকে আরও জনপ্রিয় ও জনবান্ধব করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সর্বস্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির আয়োজনে দিনাজপুর জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পায়রা ও ফেস্টুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে দিবসটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে শহীদ সোহেল-জগন্নাথ সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে মো. আলমগীর কবির আরও বলেন, অসহায় মানুষের আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করলে অনেক মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব।
স্বাগত বক্তব্যে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সদস্য সচিব ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সিনিয়র সিভিল জজ ইসরাফিল আলম বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম গতিশীল হওয়ায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে অধিদপ্তর হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি প্যানেল আইনজীবীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে আইনি সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং সিভিল সার্জন আসিফ ফোরদৌস।
এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এমাম আলী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল আল মো. মাহাবুবুর রহমান (ভুট্টো), জেল সুপার আবু নূর মো. রেজা, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার মাহফুজ সোহাগ, অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ও অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারাও বক্তব্য রাখেন। শ্রেষ্ঠ প্যানেল আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আক্তার ও অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল জব্বারকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উপকারভোগীদের মধ্যে সুইটি বেগম ও সজিব ঘোষসহ ব্র্যাকের জেলা ব্যবস্থাপক মো. ফজলুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তানছির রহমান ও মাইশা তাহরীন।
দিবসটি উপলক্ষে জনসচেতনামূলক নাটিকা পরিবেশিত হয়। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।
র্যালি ও আলোচনা সভায় আইনজীবী, এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।