
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, লালমনিরহাট অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গড়ে উঠবে আগামী দিনের বিমান প্রকৌশলী, গবেষক ও মহাকাশ বিজ্ঞানী। এই বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের জাতীয় গর্বের প্রতীক।
শনিবার (২ মে) লালমনিরহাটে অবস্থিত দেশের একমাত্র ‘অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ (এএইউবি)-এর ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও দিনব্যাপী নানা আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালমনিরহাট ক্যাম্পাসে এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়।
বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের আধুনিক জ্ঞানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অ্যাভিয়েশন শিল্পের জন্য দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক জনশক্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প সময়ে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে লালমনিরহাট অঞ্চলের শিক্ষা, অর্থনীতি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন সাধিত হবে এবং দেশের অ্যাভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের প্রত্যয় হবে আকাশের সীমানা ভেদ করা, মহাকাশে আমাদের অস্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করা।
এর আগে ত্রাণমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ড্রোন, ক্ষুদে উপগ্রহসহ মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত বিভিন্ন সরঞ্জাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক পরীক্ষাগার, গবেষণাগার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিদর্শন করেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথিসহ সুধীজনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিবাদন জানান।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয়।
উল্লেখ্য, অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ২০১৯ সালে ঢাকার পুরাতন বিমানবন্দরে স্বল্প পরিসরে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ৩ জুলাই ২০২২ তারিখে লালমনিরহাট ক্যাম্পাস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।
বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয় ৪টি অনুষদের অধীনে ৪টি স্নাতক ও ৫টি স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালনা করছে। ২০৪১ সালের মধ্যে ৮টি অনুষদের অধীনে ৪৫টি বিভাগে ৯ হাজার শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার আলোয় আলোকিত করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি কাজ করে যাচ্ছে।