
“তিস্তা বাঁচলে উত্তরবঙ্গ বাঁচবে, দেশ হবে সমৃদ্ধ”—এই শ্লোগানকে সামনে রেখে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবীতে গতকাল ২০ জুন (শনিবার) ৫ দফা দাবীতে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর মহানগরীসহ জেলার গঙ্গাচড়া এবং কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির আহবানে দীর্ঘ “মানববন্ধন” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের হুমকি থেকে তিস্তা অববাহিকার উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সুরক্ষার স্বার্থে এবং এই অঞ্চলের কোটি মানুষের নানামুখী দুর্ভোগ লাঘবের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হলে নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, কৃষিজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ গোটা উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি তিস্তা পাড়ের কোটি কোটি মানুষের উন্নয়ন ও বাঁচার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যেই তিস্তা অববাহিকার লাখো মানুষ গতকাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এসময় বক্তারা চলতি বাজেটে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো বরাদ্দ না থাকায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অবিলম্বে এ খাতে অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান।
মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে রংপুর মহানগরীর লালবাগ, শাপলা চত্বর, প্রেসক্লাব চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, পায়রা চত্বর, কাচারি বাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে, জিলা স্কুল মোড়, কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা সেতু থেকে উপজেলা সদর এবং মহানগরের বুড়িরহাট থেকে গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু এলাকা পর্যন্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
রংপুর নগরীর কাচারি বাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর আমীর ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খান।
এছাড়া বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সেতু সড়ক পয়েন্টের মানববন্ধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী।