
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আউটশাহী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলাম হাওলাদার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিক শফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে নজরুল ইসলাম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছি। বিগত ২০১৬ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং ২০২১ সালে পুনরায় বিপুল ভোটে আমি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হই। ইউপি সদস্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্মানী ভাতাও আমি নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার না করে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দান করে আসছি।”
তিনি বলেন, “বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত নিপীড়নমূলক মামলা করা হয়েছিল, তার সবকটিতে আমাকে বিএনপি কর্মী আখ্যায়িত করে আসামি করা হয়। আর এখন আবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আমাকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আসামি করা হলো।”
নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তিনি আউটশাহী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এর পর থেকেই একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে, চরিত্রহননের অপচেষ্টা চালিয়ে এবং ভিত্তিহীন মামলার মাধ্যমে তাকে হয়রানির চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশের গণমাধ্যমকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেন, “আমি কি এই দেশের নাগরিক নই? যে মানুষ রাজনৈতিক আদর্শের কারণে বছরের পর বছর মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে, সেই মানুষকেই কেন আজও বারবার হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে? জনগণের সেবার পুরস্কার কি মিথ্যা মামলা?”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোলেমান মাদবর, আউটশাহী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক লতিফ হোসেন, আউটশাহী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম রুহেল, অহিদুল ইসলাম সোহেল প্রমুখ।