
নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার কাপাসাটিয়া এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানঘর ভাঙচুর, উচ্ছেদের চেষ্টা এবং জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পরে আদালতের নির্দেশে দুর্গাপুর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র সিভিল জজ আদালত, দুর্গাপুরে দায়েরকৃত মোকদ্দমা নং-১৩৭/২০২৬-এর শুনানি শেষে আদালত বাদীপক্ষের দখলীয় স্বত্বের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় বিবাদীপক্ষ রমজান আলীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিবাদীপক্ষ সংশ্লিষ্ট নালিশি জমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ, জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর, উচ্ছেদ বা বাদীপক্ষের শান্তিপূর্ণ দখলে বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন না। একই সঙ্গে পূর্বাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন ও সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ নালিশি জমিতে থাকা দোকানঘর ভাঙচুর করে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় এবং নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করে। শিরবির গ্রামের ইন্তাজ আলীর পুত্র মোফাজ্জল হোসেনের ১ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত দোকানঘর ভেঙে ফেলেন রমজান আলী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জায়গাটি ভোগদখল করে আসছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আদালতের আদেশ কার্যকর করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।
বাদীপক্ষের দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীপক্ষ আইন অমান্য করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেছে। তারা আদালতের আদেশ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জোরপূর্বক জমি দখল ও আদালতের নির্দেশ অমান্য করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ ওঠা মো. রমজান আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি কোনো দোকানঘর ভাঙচুর করিনি। আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।"
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, "উক্ত নালিশি ভূমি নিয়ে আদালতে একটি মোকদ্দমা রয়েছে, যার নং-১৩৭/২০২৬। এ বিষয়ে আদালত থেকে গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে নোটিশ করা হয়। ওই নোটিশের কোনো জবাব না দিয়ে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করেন রমজান আলী। খবর পেয়ে আদালতের নোটিশের পরিপ্রেক্ষিতে ওই নির্মাণকাজ বন্ধ করে রাখা হয়।"