
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেন (৬১)-কে অপহরণের পর হত্যার ঘটনার মূলহোতা জাকিরসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করতে নৃশংসভাবে খুন করা হয় মোতালেবকে।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মূলহোতা জাকির (৪৫) এবং তার দুই সহযোগী ওমর ফারুক (২২) ও সোহেল (৪৯)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা নগদ ৮৬ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ড ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার গভীর রাতে বন্দর থানার সেলসারদী এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মাসদাইর এলাকা থেকে ওই দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের এমপি গলি সংলগ্ন সড়কের পাশ থেকে তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মোতালেব হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মো. মোতালেব হোসেন শিবপুর এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাসদাইর গোরস্থান এলাকায় ফারুক মিয়ার জাজিরা টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় বসবাস করতেন। তিনি মাসদাইর বাজারে একটি লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
গ্রেপ্তারকৃত জাকির মাসদাইর এলাকার জিন্নত আলী জিন্নাহর ছেলে, ওমর ফারুক একই এলাকার মিজানের বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং সোহেল লিচুবাগ এলাকার মৃত মজিদের ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে ফতুল্লা মডেল থানা-য় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জাকির নিহত মোতালেব হোসেনের কাঁধে হাত রেখে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। এরপর মাসদাইর রোকেয়া স্কুল সংলগ্ন জাকিরের বাসায় অভিযান চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাকির হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকে তিনি রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেনকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তার বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ভোরের দিকে মরদেহ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়।
আনোয়ার হোসেন, ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত), বলেন— বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা, ৮৬ হাজার টাকা, তিনটি মোবাইল ফোন ও টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।