
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার ছাড়াই একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক মা। তবে জন্মের ১২ ঘণ্টার মধ্যে চার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে একটি ছেলেশিশু জীবিত রয়েছে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, নির্ধারিত সময়ের আগেই জন্ম এবং অত্যন্ত কম ওজন হওয়ায় নবজাতকদের শারীরিক জটিলতা ছিল, যা তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়েশিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে জীবিত থাকা একমাত্র ছেলেশিশুটি হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নবজাতকদের বাবা ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা-র ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান (ডলার) এবং মা চাঁদনী বেগম (২২)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর আল্ট্রাসনোগ্রামে চাঁদনীর গর্ভে পাঁচ সন্তান থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তিনি নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিলেও হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে প্রথম নবজাতকের জন্ম হয়। পরবর্তী ৩০ মিনিটের মধ্যে বাকি চার নবজাতকের জন্ম হয়। অস্ত্রোপচার ছাড়াই সাত মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাদের জন্ম হয়। প্রতিটি নবজাতকের ওজন ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মধ্যে।
নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, জন্মের সময় পাঁচটি নবজাতকই জীবিত ছিল। তবে ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের শিশু অত্যন্ত কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়া (এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট) নবজাতকের মধ্যে পড়ে। এ ধরনের শিশুর সাধারণত নিবিড় নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) সেবা প্রয়োজন হয়। কিন্তু ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যাপ্ত এনআইসিইউ সুবিধা না থাকায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানান, জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে বর্তমানে একটি ছেলেশিশু জীবিত রয়েছে। তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।