ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ

আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন খারিজ

নগরের কোতোয়ালী থানার আলোচিত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত।

একই সঙ্গে মামলার আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২০ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফজলে খোদা মোহাম্মদ নাজিরের আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন।

বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। শুনানিতে চার্জশিটভুক্ত আসামি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। অপর আসামিদের কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, আদালতে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আলিফ হত্যা মামলার দ্বিতীয় সাক্ষী অ্যাডভোকেট শহিদুল আলম রাহাত বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

তার সাক্ষ্যের সময় এজলাসে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত অনেক আইনজীবীকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।

সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা সাক্ষীকে জেরা করেন। তিনি আরও বলেন, সোমবারও রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর জেরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের আইনজীবী পুনরায় সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২০ আগস্ট জেরার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।

একই দিনে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে করা জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় তার বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

পরবর্তীতে ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করা হয়।

৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।

বর্তমানে এ মামলায় ২৭ জন আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ১২ জন আসামি পলাতক।

জামিন আবেদন খারিজ,চিন্ময় কৃষ্ণ দাস,আলিফ হত্যা মামলা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত