ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দিনাজপুর শহরের ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেলের অস্তিত্ব বিপন্ন

দিনাজপুর শহরের ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেলের অস্তিত্ব বিপন্ন

দিনাজপুর জেলা শহরে রাজার আমলে প্রাচীন ঘাগড়া ও গিরিজা ক্যানেল—দুটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। একসময়ের প্রাণপ্রবাহ ক্যানেল দুটি এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে।

দিনাজপুর শহরের পানি নিষ্কাশন এবং মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রায় চারশ বছর আগে তৎকালীন মহারাজা গিরিজানাথ শহরের মধ্যে দুটি ক্যানেল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে মহারাজা গিরিজানাথের পরিকল্পনা অনুযায়ী পুনরায় ক্যানেল দুটির খননের কাজ শুরু করা হয়।

দিনাজপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঘাগড়া ক্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৬০ ফুট। অন্যদিকে, গিরিজা ক্যানেলের দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ৩৫ ফুট।

দীর্ঘ সময় ধরে শহরের পানি নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এই ক্যানেল দুটি। কিন্তু কালের পরিক্রমায় অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত স্থাপনা ও আবর্জনা ফেলার কারণে ক্যানেল দুটি সংকুচিত ও দূষণের শিকার হয়ে পড়েছে। খাল দখল করে কেউ তুলেছেন দেয়াল, কেউ পাকাঘর, কেউবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। সরকারি অফিসের দেয়ালও উঠেছে খালের ওপর। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই জেলা শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিতে শুরু করে।

এই অবস্থায় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও পৌরসভার সমন্বয়ে ঘাগড়া ক্যানেল খনন ও উচ্ছেদকাজে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি তখন প্রাণনাথপুর, বালুবাড়ী, খামারকাচাই, উত্তর ফরিদপুর, খামারঝাড়বাড়ী, পাহাড়পুর, কসবা ও কাঞ্চন মৌজার ৪২৮ জন অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করে। খালের জায়গায় ৬৩টি সেমিপাকা বাড়ি, ১০৬টি টিনশেড ঘর, ৪টি দ্বিতল ভবন ও একটি একতলা ভবনের তালিকা প্রস্তুত করে এবং ২৪ ডিসেম্বর উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়।

উচ্ছেদ শেষে বাউবো ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে তৎকালীন সংস্কারকাজ শুরু করে। কিন্তু গিরিজা ক্যানেল দখলমুক্ত কিংবা সংস্কারের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

২০১৯ সালে সংস্কার করা ঘাগড়া ক্যানেল সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, শহরের খালের উভয় পাড়ে অবস্থিত বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা পাইপের মাধ্যমে খালে গিয়ে পড়ছে। হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা ফেলায় খালটি আবার ভরাট হতে শুরু করেছে। ক্যানেলের কালো ময়লা পানি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়া মশার অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এখান থেকে উৎকট দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।

দিনাজপুর পৌর শহরের বাসিন্দা মো. নিয়ামত আলী জানান, ক্যানেল দুটি একসময় নৌকা চলাচলের মতো প্রশস্ত ছিল। মানুষের অসচেতনতা আর প্রশাসনের অবহেলায় ক্যানেল দুটির অবস্থা এখন বেহাল। ক্যানেলপারের বাসিন্দারা নিয়মিত আবর্জনা ফেলছেন। শুধু তাই নয়, বাড়িঘরের নির্মাণসামগ্রীর জিনিসপত্রও ক্যানেলে ফেলছেন। এটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিনাজপুর পৌরসভার। কিন্তু তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ক্যানেল দুটি দখলমুক্ত করে সংস্কার করা না হলে দিনাজপুর শহর সৌন্দর্য হারাবে। সেই সঙ্গে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মিনারুল ইসলাম খান জানান, দিনাজপুর শহরের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দূষণমুক্ত রাখতে ক্যানেল দুটি সংস্কারের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ক্যানেল দুটি দখলমুক্ত ও সংস্কার করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করা হবে।

অস্তিত্ব বিপন্ন,গিরিজা ক্যানেল,ঘাগড়া,দিনাজপুর শহর
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত