
রংপুর মহানগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই যুবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে জবানবন্দিতে দেওয়া সব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
রোববার বিকেলে আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তারা মুখ্য মহানগর হাকিম মো. রফিকুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, দুই আসামি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তারা অপরাধের দায় স্বীকার করায় নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিয়েছেন তারা।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে জবানবন্দির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
রংপুরে ৪ খুন নিয়ে নতুন তথ্য দিল ফরেনসিক বিভাগ
রংপুর নগরের কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাদের দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফরেনসিক বিভাগ। তবে নিহতদের মুখমণ্ডলে রাসায়নিক পদার্থ বা অ্যাসিড ব্যবহারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, মরদেহে পচন ধরার কারণেই মুখমণ্ডলে এমন পরিবর্তন দেখা গেছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, চারটি মরদেহেরই ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে, যা সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। সেখানকার প্রতিবেদন পাওয়ার পর হত্যার বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হবে।
নিহতদের মুখে অ্যাসিড বা অন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক জানান, পচনের কারণেই মুখমণ্ডল বিকৃত হয়েছে। ময়নাতদন্তে কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর চোয়াল ভাঙারও কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীদের তিন দিনের আল্টিমেটাম
রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে রংপুর নগরীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রংপুর জিলা স্কুলের সামনে এসে শেষ হয়। পরে স্কুলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী চৌধুরী মাহমুন্নবী ডলার, সাবেক শিক্ষক শাফিয়ার রহমানসহ সাবেক শিক্ষার্থী ও অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, সাবেক শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু বিচারের লক্ষ্যে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।