অনলাইন সংস্করণ
১৪:২৫, ০২ অক্টোবর, ২০২৬
ময়মনসিংহে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে নগরীর পূর্ব গন্দ্রপা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিতে সাতজন যাত্রী ছিলেন। সংঘর্ষের পর তাদের সবাই মারা যান।
নিহত সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। তারা হলেন জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।
পুলিশ জানায়, তারা জামালপুর থেকে গাজীপুরে যাচ্ছিলেন। মোফাজ্জল হোসেন গাজীপুরে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তাদের সঙ্গে থাকা মুঠোফোনসহ বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি শিবিরুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে পুলিশ বাসটি আটক করে। পুলিশের রেকার দিয়ে বাসটি জব্দ করে রাখা হয়েছে। তবে বাসের চালক ও সহকারীকে পাওয়া যায়নি। তারা বাস রেখে চলে গেছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে থাকা সব যাত্রী নিহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহ বাইপাসগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের উদ্ধার করেন। এরপর মরদেহগুলো ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা জুলহাস উদ্দিনের ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।