
সিরাজগঞ্জে এবার আগাম শীতকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। এসব নতুন সবজি ইতোমধ্যেই হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে এ চাষের মাধ্যমে স্বচ্ছলতা ফিরছে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ইতোমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে এ চাষ করেছেন কৃষকেরা। তবে উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, কাজিপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশি পরিমাণে এ সবজি চাষ হয়েছে। এছাড়া যমুনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলেও এ সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা।
আগাম শীতকালীন এসব সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—লাউ, কুমড়া, মুলা, গাজর, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডাটা, সিম ও বিভিন্ন শাকসবজি। শীতের আমেজ শুরু হতে না হতেই এসব সবজি চাষ শুরু করেছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা জমি লিজ নিয়ে এ চাষে ঝুঁকে পড়েছেন।
ইতোমধ্যেই এসব সবজি হাট-বাজারে উঠতে শুরু করেছে। শীতের আগেই পুরোদমে এ শীতকালীন সবজি চাষ শেষ হবে। হাট-বাজারে নতুন সবজির চাহিদাও বাড়ছে। পাশাপাশি এসব নতুন সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকেরাও খুশি।
স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় লাউসহ আগাম শীতকালীন সবজি চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এ চাষে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগও কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে।
তবে চরাঞ্চলের বিভিন্ন সবজি আগেই হাট-বাজারে উঠেছে। নতুন সবজির মধ্যে লাউ, কুমড়া, মুলা, কপি ও বিভিন্ন সবজির চাহিদা বেশি। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতি পিস লাউ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং প্রতি পিস কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাউ শাকের মূল্য ও চাহিদাও বাজারে কম নয়।
এবার শীতকালীন আগাম লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক জেরিন আহম্মেদ ‘আলোকিত বাংলাদেশ’-কে বলেন, আগাম শীতকালীন লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন কৃষকেরা। ইতোমধ্যেই লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ লাউসহ বিভিন্ন সবজি চাষ হয়েছে। এসব চাষে কৃষকদের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। এ চাষে বাম্পার ফলনের আশা করা যাচ্ছে।
ইতোমধ্যেই নতুন সবজি বিভিন্ন হাট-বাজারেও উঠছে এবং সবজির দাম ভালো থাকায় কৃষকেরা এখন খুশি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।