অনলাইন সংস্করণ
২৩:০৭, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
সারাদেশে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তা পুরোপুরি কার্যকর করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে বলা হয়েছে, নির্ভুল, অনুসন্ধানযোগ্য ও কারসাজিমুক্ত নথি নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে নাগরিকদের; বিশেষ করে নারীদের বিয়ে ও তালাকসংক্রান্ত নথির প্রত্যয়িত ডিজিটাল কপিতে ন্যায্য, সহজ ও সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে আইন মন্ত্রণালয়কে।
এ ছাড়া, নির্দেশনার বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত নেওয়া উদ্যোগ এবং পূর্ণ বাস্তবায়নের সময়সূচি উল্লেখ করে তিন মাসের মধ্যে হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে নিজেদের পর্যবেক্ষণে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আশিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ উল্লেখ করেছেন, ডিজিটাল নিবন্ধন কেবল একটি প্রশাসনিক সুবিধা নয়; এটি নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও পারিবারিক জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে এমন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাও অন্তর্ভুক্ত, যা বিয়ে নিবন্ধন ব্যবস্থার অপব্যবহার প্রতিরোধ করবে।
এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর 'এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন' ও তিনজন ভুক্তভোগীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসানের করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।
২০২১ সালের ৪ মার্চ হাইকোর্টে দাখিল করা ওই রিট আবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান আইনের বিধান অনুযায়ী বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন করা হয়, যা সম্পূর্ণভাবে একটি অ্যানালগ ব্যবস্থা এবং এতে কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা নেই।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের ২১(ক) ধারায় অনলাইন নিবন্ধনের সুযোগ থাকলেও একটি কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে প্রতীয়মান হয়।
রায়ে বলা হয়, রিট আবেদনকারীরা বিশ্বাসযোগ্যভাবে প্রমাণ করেছেন যে, ম্যানুয়াল, খণ্ডিত ও পরিবর্তনযোগ্য নয়—এমন একটি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীলতার ফলে বারবার প্রতারণা, আগের বিয়ে গোপন করা, নারীদের নিবন্ধন নথিতে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং সন্তানের বৈধতা নিয়ে জটিল বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘাটতির কারণে মর্যাদা, পারিবারিক জীবনের স্থিতিশীলতা ও শিশুদের অধিকার মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। কারণ যাচাইযোগ্য নথির অভাবে তাদের বৈধতা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এতে আরও বলা হয়, আমাদের সামনে আসা অসংখ্য ফৌজদারি মামলা থেকে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই ধরনের প্রতারণা বারবার ঘটছে। এর ফলে নাগরিকদের মর্যাদা সরাসরি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ অনুচ্ছেদ ও প্রস্তাবনায় নিশ্চিত করা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।