ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

বৃহস্পতিবার ঘোষণা হচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি

বৃহস্পতিবার ঘোষণা হচ্ছে নতুন মুদ্রানীতি

ব্যাংকিং খাতের আস্থাহীনতা, বিনিয়োগে স্থবিরতার মাঝেই বাংলাদেশ ব্যাংক চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে মুদ্রানীতি বিবৃতি (এমপিএস) ঘোষণা করা হবে। নতুন নীতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে একমাত্র অগ্রাধিকার ধরে রেখে আগের মতোই কঠোর বা সংকোচনমূলক অবস্থান বহাল রাখা হচ্ছে। ফলে নীতিগত সুদহার বা পলিসি রেপো রেট ১০ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, মূল্যস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কাগজে-কলমে সামান্য কমার আভাস মিললেও বাস্তবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমেনি। একসময় দুই অঙ্কে থাকা সার্বিক মূল্যস্ফীতি অক্টোবরে নেমে আসে ৮.১৭ শতাংশে। কিন্তু নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তা আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৮.২৯ ও ৮.৪৯ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং উৎপাদন কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে এই চাপ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের বেশি, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ হয়ে আছে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক সুদহার কমানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

নীতিগতভাবে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার যুক্তি দিলেও অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের বড় প্রশ্ন—উচ্চ সুদহার বহাল রেখে বিনিয়োগ কীভাবে বাড়বে, যখন ব্যাংকগুলো নিজেরাই তারল্য সংকটে ভুগছে?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকট কেবল মুদ্রানীতির নয়—এটি একটি গভীর কাঠামোগত ও নৈতিক সংকট। বছরের পর বছর ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দায়মুক্তি এবং সাম্প্রতিক ব্যাংক রেজ্যুলেশনে লোকসানের বোঝা পরোক্ষভাবে সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানোর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমানত প্রবাহে। মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। ফলে সুদহার অপরিবর্তিত থাকলেও ঋণ বিতরণ বাড়ার বাস্তব সম্ভাবনা খুবই সীমিত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭.২ শতাংশ। কিন্তু নভেম্বর পর্যন্ত অর্জন হয়েছে মাত্র ৬.৫-৬.৬ শতাংশের মতো। নতুন মুদ্রানীতিতে জুন-নাগাদ এই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য ধরা হলেও ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমান পরিবেশে এটি বাস্তবসম্মত নয়।

তারা বলছেন, উচ্চ সুদ, দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে নতুন বিনিয়োগে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান মুদ্রানীতি স্বল্পমেয়াদে কিছু আর্থিক সূচকে শৃঙ্খলা আনতে পারে। তবে বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা, আমানতকারীদের সুরক্ষা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে এই কঠোর নীতি বাস্তব অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত ফল আনবে না।

আবা/এসআর/২৫

মুদ্রানীতি,ঘোষণা
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত