ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশসহ চার দেশ ও অঞ্চলের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে একটি বিশেষ (অ্যাডহক অ্যাকসেশন ওয়ার্কিং) গ্রুপ গঠনের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন আরসিইপির সদস্যদেশগুলোর মন্ত্রীরা।

গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত পঞ্চম আরসিইপি মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মন্ত্রীরা আরসিইপি জয়েন্ট কমিটির (আরজেসি) দেওয়া -এ সংক্রান্ত সুপারিশে আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও অন্তর্ভুক্তি প্রক্রিয়ায় থাকা অন্য দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ চিলি, দক্ষিণ এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা এবং হংকং (চীন)।

বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আরসিইপি একটি উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোটের সম্প্রসারণ এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির রোডম্যাপ অনুযায়ী বাংলাদেশসহ আগ্রহী দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে এই ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজ করবে।

আরসিইপি জোটে আসিয়ানভুক্ত ১০টি দেশের পাশাপাশি চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড রয়েছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে কার্যকর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় সদস্যপদ প্রত্যাশী দেশগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান বাধা দূরীকরণ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে কো-চেয়ার ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উপমন্ত্রী দিয়াহ রোরো এস্তি উইদিয়া পুত্রি এবং নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য কমিটির সদস্য ড. শেন রেটি।

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি আরসিইপি-এ যুক্ত হলে বাংলাদেশ বহুমুখী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সুবিধাদি পাবে। যেমন— এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা টিকিয়ে রাখা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনে অন্তর্ভুক্তি, শুল্ক সুবিধা ও রপ্তানি বৃদ্ধি

আরসিইপিভুক্ত দেশে বাংলাদেশি পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক বাজারে প্রবেশাধিকার মিলবে। এর ফলে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে।

সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে কাঁচামাল ও প্রযুক্তি আমদানিতে সুবিধা মিলবে। চুক্তির ফলে শুধু পণ্য বাণিজ্যই নয়, বরং আইটি, ব্যাংকিং, শিপিং ও পর্যটনের মতো সেবা খাতের বিস্তার ঘটবে।

বাংলাদেশ,যুক্ত হওয়ার পথে,বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত