
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেছেন, র্যাগিং একটি অমানবিক ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের র্যাগিং, মানসিক হয়রানি কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণের কোনো স্থান নেই। তিনি বলেন, নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদেরই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ার তৃতীয় তলায় ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমেই র্যাগিংমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব।
ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াছ প্রামানিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২টি বিভাগের ১৭তম ও ১৮তম ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধিরা (সিআর) অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। র্যাগিং-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগ নির্ভয়ে প্রশাসনকে জানাতে হবে এবং সবাইকে সচেতন থেকে র্যাগিং প্রতিরোধে একযোগে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ১৭তম ব্যাচের ছয়জন এবং ১৮তম ব্যাচের ছয়জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে পৃথক দুটি র্যাগিং প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা হয়। নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, র্যাগিং প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এসব কমিটি কাজ করবে।