অনলাইন সংস্করণ
১৫:০৩, ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬
মারা গেছেন হাঙ্গেরির কিংবদন্তি চলচ্চিত্র পরিচালক বেলা তার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মঙ্গলবার ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি (ইএফএ) এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই বিশ্ববরেণ্য নির্মাতা।
ইউরোপীয় চলচ্চিত্র অ্যাকাডেমি প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা এক অসাধারণ পরিচালককে হারালাম, যার জোরালো রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর আমাদের প্রতিনিয়ত ভাবিয়েছে। তিনি শুধু সহকর্মীদের কাছেই নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সিনেমাপ্রেমীদের কাছেও ছিলেন গভীরভাবে শ্রদ্ধেয়।’
১৯৫৫ সালে হাঙ্গেরির পেচ শহরে জন্মগ্রহণ করেন বেলা তার। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলচ্চিত্র নির্মাণের জগতে তার যাত্রা শুরু। বাবার দেওয়া একটি সাধারণ ক্যামেরা দিয়ে অপেশাদারভাবে কাজ শুরু করলেও অল্প সময়েই তিনি নিজের স্বতন্ত্র প্রতিভার পরিচয় দেন। হাঙ্গেরির বিখ্যাত ‘বেলা বালাজ স্টুডিও’ থেকে তার আনুষ্ঠানিক চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ফ্যামিলি নেস্ট’।
বিশ্ব চলচ্চিত্রে বেলা তার পরিচিত ছিলেন ‘স্লো সিনেমা’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে। তার নির্মিত ছবির বৈশিষ্ট্য ছিল সাদাকালো ফ্রেম, দীর্ঘ ও স্থির শট, ধীরগতির বর্ণনা এবং সংলাপের সংযত ব্যবহার। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ড্যামনেশন’ ছবির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তিনি ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন।
তবে ১৯৯৪ সালে নির্মিত সাত ঘণ্টার মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘সেট্যানট্যাঙ্গো’ দিয়েই তিনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্থায়ী আসন করে নেন। ৪৪০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই চলচ্চিত্রটি আজও সিনেমার অন্যতম মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বহু চলচ্চিত্র গবেষক ও নির্মাতার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।
২০১১ সালে ‘দ্য তুরিন হর্স’ নির্মাণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে অবসরের ঘোষণা দেন বেলা তার। যদিও এরপরও তিনি পুরোপুরি চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকেননি। নিভৃতে কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি নবীন নির্মাতাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গেছেন আজীবন সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই কিংবদন্তি পরিচালক।
বেলা তারের মৃত্যুতে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।