অনলাইন সংস্করণ
১৪:৩৩, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ বন্দুকধারী হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে দারিকা মুর নামে ২৪ বছর বয়সী এক যুবক তিনটি স্থানে হামলা চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সাত বছরের শিশু রয়েছেন।
ঘটনার পর দারিকা মুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে প্রথমে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তবে অতিরিক্ত হত্যার অভিযোগ যুক্ত করে মামলাটি ক্যাপিটাল মার্ডারে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন ক্লে কাউন্টির শেরিফ এডি স্কট।
শেরিফ জানান, হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। নিহতদের মধ্যে চারজনই হামলাকারীর আত্মীয়স্বজন।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিটে সিডার ব্লাফ এলাকার ব্লেক রোড থেকে ৯১১-এ প্রথম ফোন আসে, যেখানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের খবর দেওয়া হয়।
হামলার সূচনা হয় ডেভিড হিল রোডের একটি বাড়ি থেকে, যেখানে মুর প্রথমে তার বাবা গ্লেন মুর (৬৭), চাচা উইলি এড গাইনস (৫৫) এবং ভাই কুইন্টিন মুর (৩৩)-কে হত্যা করেন। পরে তিনি তার ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ফোর্ড এফ-১৫০ পিকআপ চুরি করে ব্লেক রোডের অন্য একটি বাড়িতে যান।
সেখানে তিনি জোরপূর্বক প্রবেশ করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা চালান এবং সাত বছরের কন্যাশিশুকে হত্যা করেন। ওই বাড়িতে শিশুটির মা ও আরও তিন শিশু উপস্থিত ছিলেন।
পরে মুর চুরি করা গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান এবং ক্লে কাউন্টির পশ্চিমাংশের সাইলাম-গ্রিফিন রোডের একটি বাড়িতে পৌঁছান, যেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন ব্যারি ব্র্যাডলি ও স্যামুয়েল ব্র্যাডলি। তদন্তে জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজন স্থানীয় গির্জার পাদ্রি ছিলেন।
মার্কিন মার্শাল সার্ভিসসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা সংস্থার যৌথ অভিযানে দারিকা মুরকে পাইনের গ্রোভ রোড ও জো মায়ার্স রোড সংযোগস্থলে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় কোনো প্রতিরোধ দেখা যায়নি।
শেরিফ এডি স্কট জানান, অভিযুক্ত মুরের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অভিযোগ বা রেকর্ড ছিল না এবং লক্ষ্যবস্তু বাড়িগুলোর বিরুদ্ধেও পূর্বে কোনো কল বা অভিযোগ আসেনি।
এই হত্যাকাণ্ড পুরো কমিউনিটিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি স্কট কোলম জানিয়েছেন, মামলায় মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।