অনলাইন সংস্করণ
১৫:১৪, ০৬ মার্চ, ২০২৬
মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে নৃশংস হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীই দায়ী ছিল। ওই হামলায় প্রায় ১৬৫ জন শিশু নিহত হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা লাইভ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই ঘটনায় মার্কিন বাহিনী জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তদন্ত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।
গত শনিবার দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। হামলাটি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের জেনেভা কার্যালয়ে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেইনি জানিয়েছেন, এই হামলায় প্রথমে ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল বলে রিপোর্ট করা হয়েছিল। পরে নিহতের সংখ্যা ১৬৫ জনে পৌঁছায়। নিহত ছাত্রী ও স্কুলকর্মীদের স্মরণে এই সপ্তাহে ইরানে গণ জানাজা ও শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল, হাসপাতাল বা অন্য কোনো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।
এদিকে, ইউনিসেফ জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২০০ শিশু নিহত হয়েছেন।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে ইরানে ১৮১ জন, লেবাননে ৭ জন, ইসরায়েলে ৩ জন এবং কুয়েতে ১ জন রয়েছে।
ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘শিশুরা যুদ্ধ শুরু করে না, কিন্তু তারাই এর জন্য সবচেয়ে বড় মূল্য দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে শিশুদের ওপর ইতোমধ্যেই ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে।’