ঢাকা শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইরাকে মার্কিন কেসি-১৩৫ বিমান বিধ্বস্ত, জানা গেলো রহস্য

ইরাকে মার্কিন কেসি-১৩৫ বিমান বিধ্বস্ত, জানা গেলো রহস্য

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আকাশে দুটি বিমানের সংঘর্ষের পর কেসি-১৩৫ মডেলের একটি রিফুয়েলিং বিমান ভূপাতিত হয়েছে। তবে এতে শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর গুলিবর্ষণের কোনও সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেছে তারা।

বর্তমানে ওই এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমানটি দুটি বিমানের সঙ্গে জড়িত একটি ঘটনার পর নিচে পড়ে যায়। তবে এতে শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের বাহিনীর গুলিবর্ষণের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পশ্চিম ইরাকের আকাশে এই ঘটনা ঘটেছে। এই আকাশসীমাকে তারা ‘বন্ধুসুলভ আকাশসীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেখানে বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। একই ঘটনায় জড়িত দ্বিতীয় বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে বলেও জানানো হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া মার্কিন সামরিক রিফুয়েলিং বিমান যুদ্ধ অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কেসি-১৩৫ বিমানটি ঠিক কী কারণে বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সম্ভাব্য কারণ হিসেবে আকাশে দুটি বিমানের সংঘর্ষের বিষয়টি সামনে আসছে।

রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমানগুলো যুদ্ধের সময় বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিমান আকাশে থেকেই যুদ্ধবিমান ও বোমারু বিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে, যাতে তারা দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালাতে পারে। এ ধরনের অভিযানে একই সময় আকাশে একাধিক বিমান থাকে এবং প্রতিটি বিমানেরই জ্বালানি প্রয়োজন হয়।

রিফুয়েলিংয়ের সময় যুদ্ধবিমানকে ট্যাংকার বিমানের খুব কাছাকাছি উড়তে হয়। এরপর ট্যাংকার বিমান থেকে একটি জ্বালানি সরবরাহ পাইপ নিচে নামানো হয়। জ্বালানি গ্রহণকারী বিমানের পাইলট আলো নির্দেশনার মাধ্যমে নিজের অবস্থান সামঞ্জস্য করেন, যাতে পাইপটি সরাসরি বিমানের সঙ্গে যুক্ত করা যায়।

সংযোগ স্থাপনের পর কয়েক মিনিট ধরে জ্বালানি সরবরাহ করা হয় এবং এই সময় দুটি বিমান খুব কাছাকাছি অবস্থানে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে রাতের অন্ধকারেও এই অভিযান পরিচালিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে পাইলটদের অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জ্বালানি সংযোগ বজায় রাখতে হয়, কারণ আশপাশে একই সময়ে আরও অনেক বিমান থাকতে পারে। কখনও কখনও শত্রুর নজর এড়াতে রিফুয়েলিং অভিযানের সময় বিমানের আলোও বন্ধ রাখা হয়।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি ইরাকের আকাশে ঘটলেও এটি প্রতিবেশী দেশ ইরানের সীমান্ত থেকে কত দূরে ঘটেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। সাধারণত একটি কেসি-১৩৫ বিমানে তিনজন ক্রু সদস্য থাকেন—একজন পাইলট, একজন কো-পাইলট এবং একজন বুম অপারেটর।

মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের বহরে প্রায় ৪০০টি রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমান রয়েছে।

এদিকে মার্কিন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান জিম হাইমস বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে বলেন, ঘটনাটি কেন ঘটেছে তার কারণ এত দ্রুত নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিমানে থাকা ক্রুরা নিরাপদ আছেন।

তার ভাষায়, সংঘাতের সময় এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীতেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং এখানে সম্ভবত তেমনটাই ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, বিমানের ক্রুদের নিরাপত্তার জন্য তারা প্রার্থনা করছেন। তবে একটি দেশ যখন যুদ্ধে জড়ায়, তখন এ ধরনের মূল্যও দিতে হয়।

জানা গেলো রহস্য,বিমান বিধ্বস্ত,মার্কিন কেসি-১৩৫ বিমান
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত